বাংলাদেশ

কক্সবাজারে মায়ের সাথে কারাগারে ছোট্ট শিশু

পুলিশি মামলায় বিতর্ক

  • 2:54 am - April 13, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২০০ বার
ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৩ এপ্রিল- কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় এক রাজনৈতিক নেতার পরিবারের সদস্যদের আটক ও একটি শিশুকে মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে, যেখানে মানবাধিকার ও আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন মহল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিরা উখিয়া উপজেলার একটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাহউদ্দিন মেম্বারের পরিবারের সদস্য। আটক হওয়া চারজনের মধ্যে রয়েছেন তার পিতা জাফর আলম (৮০), স্ত্রী, ভাইয়ের স্ত্রী এবং প্রায় আট বছর বয়সী এক শিশু।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দিবাগত রাতে। পুলিশ সালাহউদ্দিন মেম্বারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার ছোট ভাই মিজানকে আটক করে। তবে একপর্যায়ে তিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যান। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় ‘পুলিশের ওপর হামলা’ অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১৫ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আটক চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

তবে একজন বৃদ্ধ, দুই নারী এবং একটি শিশুকে এভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত ও আটক করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুটিকে মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানো নিয়ে মানবিক ও আইনি দিক থেকে প্রশ্ন উঠেছে।

আইনজীবী ব্যারিস্টার সাফফাত ফারদিন রামিম সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ৯ বছরের নিচে কোনো শিশুকে ফৌজদারি অপরাধে দায়ী করা যায় না। সেই বিবেচনায় একটি শিশুকে গ্রেপ্তার বা আটক করা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

উখিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক সাইদ মোহাম্মদ আনোয়ারও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুকে থানায় আটক রেখে আদালতে পাঠানো শুধু আইনের পরিপন্থী নয়, এটি মানবিক মূল্যবোধেরও গুরুতর অবমাননা।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে আইনের বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে। তাই কোনো শিশুকে মামলার প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা বা আটক রাখা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়, যেখানে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও জরুরি।

অন্যদিকে পুলিশের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পালিয়ে যাওয়া এক আসামিকে ধরতে গিয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া-টেকনাফ সার্কেল) রকিবুল হাসান জানান, পরিবারের অনুরোধেই শিশুটিকে তার মায়ের সঙ্গে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত নেবে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইনি ও মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এই শাখার আরও খবর

নিখোঁজের চারদিন পর বন্ধ ঘর থেকে উচ্ছ্বাস কর্মকারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- চার দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গভীর রাতে…

কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা…

শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে কংগ্রেস, অভিযোগ ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ভারতের বিরোধীদল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যু ঘিরে চলমান…

নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই:  যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…

সাত মাসের শিশু কন্যাকে আছড়ে হত্যার মামলায় বাবা গ্রেপ্তার

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: রাজধানীর উত্তরার সিরাজ মার্কেট এলাকায় সাত মাস বয়সী শিশুকন্যাকে আছড়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাবা কবির ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন…

জাবি মেডিক্যাল সেন্টারে ২১ দিনে প্রায় ২০ হাজার ওষুধের গরমিল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিক্যাল সেন্টারে মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের গরমিল ধরা পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ ক্রয় কমিটির…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au