নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের হামজার ডেইল (পুলইশার ঘোনা) এলাকায় নয়ন সাধু নামে এক হিন্দু পুরোহিতের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সকালে স্থানীয়রা পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতর থেকে তাঁর ঝুলন্ত ও অর্ধপোড়া মরদেহ উদ্ধার করেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৯ এপ্রিল রাতে নয়ন সাধুকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা জঙ্গলের ভেতর একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।
পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর গলায় থাকা রুদ্রাক্ষের মালা দেখে স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহে অগ্নিদগ্ধের চিহ্ন ছিল, যা ঘটনাটিকে আরও নৃশংস করে তুলেছে।
নয়ন সাধু একজন সন্ন্যাসী জীবনযাপন করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি মন্দিরে সেবায়েত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা এবং মরদেহের প্রতি এমন আচরণে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, পাহাড়ে মন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে ভূমিদস্যুদের সঙ্গে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনায় নিহত নয়ন দাশের স্ত্রী অঞ্জনা শীল জানান, গত ১৯ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দুইজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাদের বাড়িতে এসে নয়ন দাশকে বাইরে ডেকে নেয়। বিষয়টি প্রথমে স্বাভাবিক মনে হলেও, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও স্বামী ঘরে ফিরে না আসায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে আশপাশের বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
অঞ্জনা শীল আরও বলেন, পরদিন ভোরে পুনরায় খোঁজ করতে গিয়ে বাড়ির নিকটবর্তী মন্দির এলাকা থেকে প্রায় ৫০-৬০ গজ দূরে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি জঙ্গলের মধ্যে স্বামীর পরিহিত একটি চাদরসদৃশ কাপড় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ দৃশ্য তাকে আতঙ্কিত করে তোলে এবং তিনি আশঙ্কা করেন, নয়ন দাশের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিপজ্জনক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তিনি পরদিন সোমবার কক্সবাজার সদর থানায় স্বামীর নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কক্সবাজার সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জনি ধর বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক। অজ্ঞাত ব্যক্তিদের মাধ্যমে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার পর তিনদিন নিখোঁজ থাকার পর পাহাড়ি এলাকায় গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয়ভাবে নয়ন দাশের সঙ্গে কারও দৃশ্যমান শত্রুতা বা বিরোধের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায় জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকল দিক গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au