নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…
মেলবোর্ন, ২৬ মে- ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। দ্রুতগামী একটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তারা। নিহত দুজনই জামালপুর জেলার বাসিন্দা এবং জীবিকার তাগিদে ইরাকে গিয়ে একটি কনফেকশনারি কারখানায় কাজ করতেন।
সোমবার (২৫ মে) স্থানীয় সময় ভোররাতে কুর্দিস্তানের হাওলিয়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাতভর কাজ শেষে তারা বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় রাস্তা পার হওয়ার মুহূর্তে দ্রুতগতির একটি বাস তাদের চাপা দেয়।
নিহতরা হলেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারী এলাকার খলিল মণ্ডলের ছেলে মনোহর আলী (৩৫) এবং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি গ্রামের মৃত আলাল উদ্দিনের ছেলে বজলুর রহমান (৪০)।
দুজনের মৃত্যুর খবরে তাদের গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
স্বজনরা জানান, মনোহর আলী প্রায় চার বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ইরাকে যান। আর বজলুর রহমান যান প্রায় দেড় বছর আগে। তারা একই কনফেকশনারি কারখানায় কাজ করতেন এবং একসঙ্গেই থাকতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার রাতভর কারখানায় কাজ শেষে সোমবার ভোরে বাসায় ফিরছিলেন তারা। রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী বাস তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
সোমবার দুপুরে মনোহর আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে আছে পরিবেশ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাঁর স্ত্রী সোমা আক্তার বলেন, রোববার বিকেলেই স্বামীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল।
তিনি বলেন, “ও পরিবারের সবার খোঁজখবর নিয়েছিল। কোনোভাবেই বুঝতে পারিনি এটাই শেষ কথা হবে। ভোরে খবর পাই, সড়ক দুর্ঘটনায় ও মারা গেছে।”
সোমা আক্তার আরও জানান, স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার দিনই কালবৈশাখী ঝড়ে তাদের একমাত্র বসতঘরটিও বিধ্বস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার স্বামীই সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল। যেদিন ওর মৃত্যুর খবর পেলাম, সেদিনই ঘরটাও ঝড়ে ভেঙে গেছে। এখন কীভাবে সংসার চালাব, ব্যাংকের ঋণের কিস্তি দেব, দুই সন্তানকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব কিছুই বুঝতে পারছি না।”
অন্যদিকে নিহত বজলুর রহমানের স্ত্রী আঁখি আক্তার জানান, রোববার দুপুরে স্বামীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল।
তিনি বলেন, “ও বলেছিল বাচ্চাদের খেয়াল রাখতে। ঈদের পর দেশে আসবে বলেছিল। কিন্তু সেই মানুষটাই আর ফিরল না।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই পরিবারই আর্থিকভাবে অসচ্ছল। পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বিদেশে গিয়েছিলেন মনোহর ও বজলুর। তাদের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au