ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে…
মেলবোর্ন, ২৬ মে- সিরিয়ার আলোচিত আল-রোজ শিবিরে আটক থাকা ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট নারী ও শিশুদের মধ্যে প্রায় সবাই অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার প্রস্তুতি নিলেও একজন নারী এবং তার সন্তান দেশে ফিরছেন না বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার। বিষয়টি ঘিরে নতুন করে নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, শিবিরে থাকা শেষ দফার সাতজন নারী ও ১৪ শিশুর অধিকাংশই ইতিমধ্যে দেশে ফেরার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। তবে দুইজন এখনো ফিরছেন না, যার মধ্যে একজন নারী টেম্পোরারি এক্সক্লুশন অর্ডার বা সাময়িক প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। তার সন্তানও তার সঙ্গেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যারা দেশে ফিরবেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, এই ব্যক্তিরা একটি নিষিদ্ধ ও সহিংস সন্ত্রাসী সংগঠনে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং তাদের সন্তানদেরও এমন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছিল, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি আরও জানান, এই ফিরতি প্রক্রিয়ায় সরকার কোনো ধরনের সহায়তা দিচ্ছে না। তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ২০১৫ সাল থেকেই এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। অতীতেও সিরিয়া থেকে ফিরে আসা বহু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪৫ জন যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী পুরুষও ছিলেন।
আল-রোজ শিবির থেকে সাত নারী ও ১৪ শিশু সম্প্রতি বের হয়ে দীর্ঘ প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে পৌঁছায়। এরপর তারা কাতারের দোহায় উড়ে যায়। সেখান থেকে তাদের অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্নে ফেরার কথা রয়েছে। তারা অস্ট্রেলীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন, যা তারা সিরিয়া থেকে বের হওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করার সময় পেয়েছিলেন।
তবে একজন নারী ও তার সন্তান এই দলে নেই। অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিম সিডনির হোদান আবি নামের ওই নারী ২০১৫ সালে অল্প বয়সে দেশ ছেড়ে সিরিয়ায় গিয়েছিলেন। সরকার ফেব্রুয়ারিতে তার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার ফলে তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। তার সন্তানও মায়ের সঙ্গে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সিডনি ও মেলবোর্নে ফেরার পরই তিন ‘আইএসআইএস ব্রাইড’ গ্রেপ্তার। ছবিঃ সংগৃহীত
ফিরে আসা এই নারীদের একটি বড় অংশ নিয়ে ইতিমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে সিরিয়া থেকে ফেরা আরেকটি দলের ১১ জনের মধ্যে তিন নারীকে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পরপরই গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দাসত্ব, সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগদান এবং সন্ত্রাসী এলাকায় ভ্রমণের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আরেক নারীকে তখন গ্রেপ্তার করা হয়নি।
সরকার জানিয়েছে, দেশে ফিরে আসা যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বছরের পর বছর ধরে আল-রোজ ও আল-হল শিবিরে থাকা এই নারীরা বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছেন, তারা প্রতারণার শিকার হয়ে সিরিয়ায় গিয়েছিলেন অথবা সেখানে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সেই দাবির বিষয়ে এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
শিবিরে থাকা নারীদের মধ্যে নেসরিন জাহাব, সামায়া জাহাব, আমিনা জাহাব, কির্স্টি রস-এমিলসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন, যাদের বিষয়ে বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। তাদের অনেকেই আইএস সদস্যদের সঙ্গে বিয়ে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং পরবর্তীতে বন্দিশিবিরে দীর্ঘদিন আটক থাকার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে আল-রোজ শিবিরে থাকা জীবনযাপন দীর্ঘদিন ধরেই মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনেক শিশু সেখানে জন্ম নিয়েছে, যারা কঠোর পরিবেশের মধ্যেই বড় হয়েছে। যদিও তাদের অনেকেই অস্ট্রেলীয় পরিচয় বহন করছে, তবুও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনো বিতর্কিত ও জটিল রয়ে গেছে।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au