গুরুতর আহত অতিরিক্ত সচিব
মেলবোর্ন, ৩০ মে- পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য শামীমুজ্জামান ফিরোজ। শুক্রবার (২৯…
মেলবোর্ন, ২৯ মে- ক্রমশ গভীর হচ্ছে জাপানের জনসংখ্যা সংকট। সর্বশেষ আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশটির জনসংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। জন্মহার হ্রাস ও বৃদ্ধ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি এখন বড় ধরনের জনমিতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) প্রকাশিত জাপানের জাতীয় আদমশুমারির প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে দেশটির মোট জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখে। ২০২০ সালের তুলনায় এই সংখ্যা ৩০ লাখেরও বেশি কমেছে।
জাপানে ১৯২০ সাল থেকে নিয়মিত আদমশুমারি পরিচালিত হয়ে আসছে। সেই হিসেবে এবারই পাঁচ বছরের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় জনসংখ্যা হ্রাসের ঘটনা ঘটল। এর আগে ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে যে হারে জনসংখ্যা কমেছিল, এবার তার চেয়েও তিন গুণ বেশি হ্রাস পেয়েছে।
জাপান সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র মিনোরু কিহারা সাংবাদিকদের বলেন, সর্বশেষ তথ্য প্রমাণ করছে যে দেশের জনসংখ্যা হ্রাসের সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম নিম্ন জন্মহারের দেশ জাপানে দীর্ঘদিন ধরেই বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে তরুণদের বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার আগ্রহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৫ হাজার ৮০৯ জন, যা টানা দশম বছরের মতো জন্মহার কমার রেকর্ড তৈরি করেছে।
এই সংকট মোকাবিলায় জাপান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তরুণদের বিয়ে ও সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে চালু করা হয়েছে ডেটিং অ্যাপ, বাড়ানো হয়েছে শিশুপালন ভাতা এবং পিতামাতার ছুটির সুবিধা। তবে এসব উদ্যোগ এখন পর্যন্ত খুব বেশি কার্যকর হয়নি।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, শ্রমশক্তি কমে যাওয়া, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপের কারণে জাপানের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় অভিবাসনকে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বিদেশিদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর অবস্থানের পক্ষে মত দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী কয়েক দশকে জাপানের জনসংখ্যা আরও দ্রুত কমে যেতে পারে, যা দেশটির অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au