৪৮ দল, বাড়তি ম্যাচ ও ট্রাম্প বিতর্ক: কেমন কাটল ২০২৬ বিশ্বকাপ?
মেলবোর্ন, ২০ জুলাই- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে। প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে…
মেলবোর্ন, ১৯ জুলাই- বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা নতুন মাত্রা পায়। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার প্রতি বাংলাদেশি সমর্থকদের আবেগ ও ভালোবাসা আবারও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর কেড়েছে। বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নীল-সাদা পতাকা, লিওনেল মেসির দেয়ালচিত্র এবং আর্জেন্টিনার জার্সিতে সেজে ওঠা হাজারো সমর্থকের ছবি বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ এখনো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ না পেলেও ফুটবলের প্রতি এখানকার মানুষের ভালোবাসা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে ঘিরে সমর্থকদের আবেগ বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায়ও বেশি। এবারও বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে সেই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ঢাকার মোটর মেকানিক নুরুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থক। তার বাবা ছিলেন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার ভক্ত। সেই ভালোবাসাই এখন তার সন্তানদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের সবাই এবারও আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ফাইনাল দেখার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
ব্যবসায়ীরাও বলছেন, বিশ্বকাপ ঘিরে আর্জেন্টিনার জার্সির চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। বাংলাদেশ স্পোর্টস অ্যাকসেসরিজ মার্চেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা শামীম পাটোয়ারী জানান, এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জার্সি বিক্রি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাক উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় বাংলাদেশ থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফুটবল জার্সি তৈরি ও রপ্তানি করা হয়।
দেশের অন্যতম বড় ক্রীড়া পণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সি স্পোর্টসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের মোট জার্সি বিক্রির প্রায় ৩০ শতাংশই আর্জেন্টিনার। অনেক অভিভাবক নবজাতক সন্তানদের জন্যও আর্জেন্টিনার জার্সি কিনছেন। তাদের ভাষায়, অনেক ক্রেতার কাছে দামের চেয়ে প্রিয় দলের প্রতি আবেগই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রাজধানীর নিম্নআয়ের এলাকাগুলোতেও ফুটবল উন্মাদনা সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটপাতে জার্সি বিক্রি করা আল মামুন জানান, তিনি ম্যারাডোনার খেলা দেখে আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েছিলেন এবং এখনো সেই ভালোবাসা অটুট রয়েছে। বিশ্বকাপের সময় ফুটপাতে আর্জেন্টিনার জার্সির বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপ এলেই দেশজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপের অনেক ম্যাচ বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে শুরু হলেও তাতে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে কোনো ভাটা পড়েনি।
সমর্থক জাকিয়া মুসান্না বলেন, আর্জেন্টিনার জার্সি পরলে দলের সঙ্গে একাত্মতার অনুভূতি তৈরি হয়। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি মনে রেখেই এবারও পরিবারের সঙ্গে একই স্থানে বসে ফাইনাল দেখার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। সমর্থকদের বিশ্বাস, ম্যারাডোনার হাত ধরে শুরু হওয়া যে আবেগ, লিওনেল মেসির নেতৃত্বে তা আজও বাংলাদেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে সমানভাবে বেঁচে আছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au