হাসানের ৭ উইকেটে ওরচেস্টারশায়ারকে হারাল কেন্ট
ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে কেন্টকে জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট…
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: প্রায় এক দশক আগে সিরিয়ায় নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা অস্ট্রেলীয় চিকিৎসক ও কুখ্যাত আইএস সদস্য তারেক কামলেহ জীবিত রয়েছেন। ইরাকের একটি কারাগারে তাকে আটক অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে। তবে অস্ট্রেলিয়া সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসে স্বেচ্ছায় যোগ দেওয়া এই ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো ধরনের সহায়তা করা হবে না।
পার্থে জন্ম নেওয়া শিশু বিশেষজ্ঞ তারেক কামলেহ, যিনি ‘ড. জিহাদ’ নামে পরিচিত ছিলেন, গত দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এ যোগ দেন। ২০১৭ সালে সিরিয়ার রাক্কায় ভয়াবহ যুদ্ধের সময় তিনি নিহত হয়েছেন বলে তার পরিবার ও অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করেছিল।
তবে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বর্তমানে ইরাকের একটি কারাগারে আটক ১৩ জন অস্ট্রেলীয় পুরুষের মধ্যে তারেক কামলেহও রয়েছেন। তারা সবাই অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, বিপজ্জনক সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনো অস্ট্রেলীয় নাগরিককে সরকার কোনো ধরনের সহায়তা করবে না। তিনি বলেন, এই গোষ্ঠীর কিছু ব্যক্তি যদি কখনো অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসেন, তাহলে তাদের দেশের প্রচলিত আইনের পূর্ণ আওতায় আনা হবে। অস্ট্রেলিয়ার জনগণের নিরাপত্তাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য ক্লেয়ার ও’নিলও তারেক কামলেহকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক, যার কাজ মানুষের জীবন রক্ষা করা, কীভাবে একটি মৃত্যুকেন্দ্রিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে যোগ দিতে পারেন, তা তার কাছে বোধগম্য নয়। তার ভাষায়, “আমার মতে, ওই ব্যক্তি কারাগারেই পচে থাকুক।”
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রকাশিত আদালতের নথিতে তারেক কামলেহকে আইএসের তথাকথিত স্বাস্থ্য বিভাগের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সংগঠনের পতনের সময় তার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার বিষয়ও উঠে এসেছে।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ ইতোমধ্যেই সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগে তারেক কামলেহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
সম্প্রতি সিরিয়া থেকে আইএস-সংশ্লিষ্ট ১০ নারী ও তাদের সন্তানদের অস্ট্রেলিয়ায় ফেরত আনার পর বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধীদলীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র টেড ও’ব্রায়েন বলেন, তারেক কামলেহ ঘৃণার খেলাফতকে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এমন একজন ব্যক্তিকে দেশে ফিরতে দেওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, এই ব্যক্তি একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজের পেশার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং অন্যদের হত্যা ও সহিংসতায় উৎসাহিত করেছেন। তাই তাকে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরানোর কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।
ওয়ান নেশন পার্টির নেতা পলিন হ্যানসনও একই ধরনের অবস্থান নিয়ে বলেন, তারেক কামলেহ নৈতিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব দাবি করার অধিকার হারিয়েছেন। তার অভিযোগ, লেবার সরকার জনগণের কাছ থেকে আইএস-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরানোর বিষয়ে প্রকৃত তথ্য গোপন করছে।
অন্যদিকে মন্ত্রিসভার সদস্য মারে ওয়াট বিরোধীদের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সংবিধান অনুযায়ী কোনো নাগরিককে দেশে ফেরা থেকে পুরোপুরি বিরত রাখার ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পূর্ববর্তী কোয়ালিশন সরকারের সময়ও ৪০ জনের বেশি বিদেশি যোদ্ধা অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে এসেছিলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও কাউকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ সহায়তা দিচ্ছে না। তবে কেউ যদি অস্ট্রেলিয়ার আইন ভঙ্গ করে থাকেন, তাহলে দেশে ফিরলে তাকে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
সুত্রঃ দ্য অস্ট্রেলিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au