জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, শপিং মলের একাংশ ধস; বহু মানুষ আটকা
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই: জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি বহুতল শপিং মলের একাংশ ধসে পড়েছে। এতে মলটির ভেতরে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় বহু…
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই: বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার ঘটনা যেন বারবার ফিরে আসছে। সর্বশেষ নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই হিন্দু যুবকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা হলেও হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে।
“সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা হিন্দু পরিবারের বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালাচ্ছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার এক যুবক তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভারতের একটি চলমান আন্দোলন নিয়ে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে আরেক যুবকের করা একটি মন্তব্যও ধর্মীয় অবমাননাকর বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর রোববার সন্ধ্যায় একদল উত্তেজিত লোক অভিযুক্ত দুই যুবকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
“তবে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ফেসবুক পোস্টটির প্রকৃত বিষয়বস্তু বা কী লেখা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।”
পরবর্তীতে রোববার রাতেই কলমাকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মান্নান বাদী হয়ে দুই যুবকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২৬(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি কোনো অপরাধ হয়ে থাকে, তবে তার বিচার আদালতের মাধ্যমে হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর এবং পরিবারকে আতঙ্কিত করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী এক যুবকের স্বজন বলেন, “যে অন্যায় করেছে, আমরা চাই তার শাস্তি হোক। কিন্তু আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হলো কেন? জীবন বাঁচাতে আমরা পালিয়ে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি সব তছনছ। আমরা এখন আতঙ্কের মধ্যে আছি।”
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছিল। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগের তদন্তের আগেই সংঘবদ্ধ জনতা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে। এমন ঘটনায় যদি হামলাকারীদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ও দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে অভিযোগের বিচার যেমন জরুরি, তেমনি জনতার সহিংসতা ও ভাঙচুরে জড়িতদেরও সমানভাবে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au