নড়াইলে বাড়ির সামনে থেকে হিন্দু শিক্ষিকার গলার চেইন ছিনতাই
নড়াইলের লোহাগড়া পৌর এলাকায় বাড়ির সামনে থেকে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাইয়ের পুরো ঘটনা ওই শিক্ষিকার বাড়ির সিসিটিভি…
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভিন্ন মুদ্রাভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল ইউরোজোন চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রত্যাশার চেয়েও শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তবে বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, উচ্চ জ্বালানির দাম, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ইউরোস্ট্যাট প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউরো মুদ্রা ব্যবহারকারী ২১টি দেশের অর্থনীতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায় ০ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। অথচ জরিপে অর্থনীতিবিদরা ০ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ফলে প্রত্যাশার তুলনায় দ্বিগুণ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ইউরোজোন ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
একই সময়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইউরোজোনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বাজারের পূর্বাভাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। পাশাপাশি আগের কয়েকটি প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধির হিসাবও ঊর্ধ্বমুখী সংশোধন করা হয়েছে, যা অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোজোনের বড় অর্থনীতিগুলোর প্রত্যাশার চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির অর্থনীতি ০ দশমিক ২ শতাংশ করে বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখা স্পেনের অর্থনীতি বেড়েছে ০ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া নেদারল্যান্ডসের অর্থনীতি ০ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা বাজারের প্রত্যাশার প্রায় দ্বিগুণ।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ইউরোপজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পারিবারিক ভোগব্যয়ের স্থিতিশীলতা এবং জার্মানির প্রতিরক্ষা ও অবকাঠামো খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ার ফলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
শ্রমবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জুন মাসে ইউরোজোনে বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ৩ শতাংশে স্থিতিশীল ছিল। একই সঙ্গে শিল্প ও সেবা খাতের আস্থার সূচকও প্রত্যাশার তুলনায় উন্নত হয়েছে, যা অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ইতিবাচক গতি নির্দেশ করছে।
তবে এই আশাবাদের মধ্যেও সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, বর্তমান প্রবৃদ্ধির পেছনে কিছু সাময়িক কারণ রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বজায় নাও থাকতে পারে। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ডের অর্থনীতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যার বড় অংশ এসেছে দেশটিতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ কোম্পানিগুলোর অবদান থেকে। ছোট অর্থনীতি হলেও আয়ারল্যান্ডের এই প্রবৃদ্ধি ইউরোজোনের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে বড় প্রভাব ফেলেছে।
কমার্জব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়র্গ ক্রেমার বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা বিলম্বিত হতে পারে। এর ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার গতি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির উচ্চ মূল্য, অপরিশোধিত জ্বালানিপণ্যের সরবরাহ সংকট এবং মূল্যস্ফীতির চাপ ধীরে ধীরে ইউরোপের ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ সুদের হার ভোগব্যয় ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
যদিও দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি ইউরোজোনের জন্য স্বস্তির খবর, তবুও চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আগামী মাসগুলোতে ইউরোপীয় অর্থনীতিকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au