হাসানের ৭ উইকেটে ওরচেস্টারশায়ারকে হারাল কেন্ট
ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে কেন্টকে জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট…
মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট: চীন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন কৌশলগত এলাকাগুলোতে রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি রুপি বা ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত। আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ, যা বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, দ্রুত পরিবহন নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনের সময় সামরিক রসদ ও সেনা চলাচল সহজ করতে এই বৃহৎ রেল অবকাঠামো কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নকে কৌশলগত অগ্রাধিকার দেওয়ার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঞ্জাব, রাজস্থান, হিমাচল প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে নতুন রেললাইন নির্মাণ, বিদ্যমান রেলপথ সম্প্রসারণ, প্ল্যাটফর্ম আধুনিকায়ন এবং রেল নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর সঙ্গে দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সংযোগ আরও জোরদার হবে।
সূত্রগুলোর দাবি, আগামী দুই বছরে ভারতের মোট রেল অবকাঠামো ব্যয়ের প্রায় ২২ শতাংশ এই সীমান্তভিত্তিক প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই রেল অবকাঠামো শুধু বেসামরিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য নয়, বরং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য (ডুয়াল-ইউজ) অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলা হবে। অর্থাৎ প্রয়োজন হলে একই রেলপথ ব্যবহার করে সেনা সদস্য, সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ দ্রুত সীমান্তে পৌঁছে দেওয়া যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভারত সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে ভারত-চীন সীমান্ত সংঘর্ষের পর হিমালয় অঞ্চলে সড়ক, সেতু, টানেল এবং রেলপথ নির্মাণের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতাও এই সীমান্তকেন্দ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিকল্পনার আওতায় শিলিগুড়ি করিডর, হিমালয় অঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সব ধরনের আবহাওয়ায় চলাচলযোগ্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় সেনা মোতায়েনের সময় কমবে, সরবরাহ ব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ভারত পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৪৫০ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ডোকলাম সীমান্তসংলগ্ন এলাকাসহ চীন সীমান্তে একাধিক অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত বছর কাশ্মীর উপত্যকার সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডকে যুক্ত করতে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলসেতুও উদ্বোধন করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার নতুন রেললাইন যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন অচল থাকা কয়েকটি অ্যাডভান্সড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ড পুনরায় চালু করে সেখানে সামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার পরিচালনার সক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই সীমান্তকেন্দ্রিক রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন আরও শক্তিশালী হবে, তেমনি সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও এর দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au