মিটার-সংযোগ ছাড়াই গ্রাহকের নামে এলো ৬৯২ টাকার বিদ্যুৎ বিল
জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিদ্যুতের নতুন মিটার স্থাপন কিংবা সংযোগ দেওয়ার আগেই এক গ্রাহকের নামে ৬৯২ টাকার বিল তৈরি হয়েছে। আগস্ট মাসের ওই বিল দেখে বিস্মিত হয়েছেন…
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও সাময়িকভাবে ফেসবুক থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গের কাছে তিন দিনের মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভারতের সংসদীয় যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কমিটি। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে ফেসবুকের ‘সেফ হারবার’ আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় কমিটি এ ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কমিটির দাবি, ভারতের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও সরিয়ে দেওয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাকে নয়, বরং দেশের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সাংবিধানিক পদকে লক্ষ্যবস্তু করার শামিল।
কমিটির সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে মেটা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ফেসবুকের জন্য প্রযোজ্য ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা বাতিলের সুপারিশ করা হতে পারে। এই আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহার করা হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর) দায়ের এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২৩ জুলাই, যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি সেলফি-ধাঁচের ভিডিও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশের পর ফেসবুকে শেয়ার করা হয়। ভিডিওটিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। তবে প্রকাশের কিছুক্ষণ পরই ভিডিওটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে সমালোচনা শুরু হলে মেটা সেটি পুনরায় ফেসবুকে ফিরিয়ে আনে।
ঘটনার পর ভারতের সংসদীয় কমিটি মেটার কর্মকর্তাদের তলব করে ব্যাখ্যা চায়। জবাবে মেটা জানায়, এটি একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে ঘটেছে এবং প্রতিষ্ঠানটি এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে। তবে ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এই ব্যাখ্যাকে সন্তোষজনক বলে মনে করেনি। মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, যদি এটি সত্যিই প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে হয়ে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে মেটাকে আরও শক্তিশালী প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ভিডিওটি সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রথমে বিজেপির একাধিক নেতা এবং অনলাইন ভাষ্যকারদের নজরে আসে। এরপর তারা মেটার কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করেন এবং বিষয়টি দ্রুত রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
এদিকে একই সংসদীয় কমিটি গুগল, ইউটিউব, এক্স, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটসহ বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্ট এবং নারীদের লক্ষ্য করে তৈরি আপত্তিকর উপাদান সর্বোচ্চ তিন দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পৃথক অভিযোগে তেলেঙ্গানা পুলিশ গুগল ও মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। গুগলের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক আর্থিক অ্যাপ হোস্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর মেটার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে তৈরি একটি ভুয়া ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি ভিডিও অপসারণের বিতর্ক নয়, বরং ভারত সরকার ও বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দায়বদ্ধতা নিয়ে চলমান টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মেটার প্রতিক্রিয়া এবং ভারতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এ ইস্যুর ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সুত্রঃইন্ডিয়া টুডে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au