কোন দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কে কে?
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। রোববার ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান…
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে তাণ্ডব চালানোর পর এবার চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’। ঝড়টির প্রভাবে ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার পর্যন্ত বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং টানা ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় চীনের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের আগাম প্রস্তুতি জোরদার করেছে দেশটির প্রশাসন।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, টাইফুন ‘ডলফিন’ উপকূলে আঘাত হানার সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬২ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে। স্যাফির-সিম্পসন স্কেলে ক্যাটাগরি-২ মাত্রার এই ঝড়ের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ঘরবাড়ি, অবকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
চীনে পৌঁছানোর আগেই টাইফুনটি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া এলাকায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। সেখানে ঝড়ের কারণে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন এবং ৫০ হাজারের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চীনের উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও অন্যান্য জাহাজকে দ্রুত বন্দরে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি ঝরনা, নির্মাণস্থল এবং জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, চীনের স্থলভাগে আঘাত হানার পর ধীরে ধীরে টাইফুন ‘ডলফিন’ দুর্বল হয়ে পড়বে। তবে ঝড়ের গতি কমে যাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত চীনের ঝেজিয়াং, সাংহাই, ফুজিয়ান ও জিয়াংসুসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির ফলে কিয়েনতাং ও ইয়ং নদীসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীন সরকার চার স্তরের জরুরি ব্যবস্থার আওতায় বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে। ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ানে তৃতীয় স্তরের এবং জিয়াংসু ও আনহুইতে চতুর্থ স্তরের সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঝড়ের প্রভাব থেকে সমুদ্রবন্দর ও নৌযানগুলোকে নিরাপদ রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাংহাইয়ের ইয়াংশান বন্দর থেকে সব জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাগরে থাকা ৫০০টির বেশি নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টাইফুনটির গতিপথ ও শক্তি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভারি বৃষ্টির কারণে বন্যা, ভূমিধস ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au