মহানবমী আজ, কাল প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসব
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)। দিনভর নানা ধর্মীয় আচার, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত…
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট: খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় বিদ্যালয় ছুটির প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর স্কুলের একটি বাথরুম থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাথরুমটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনে বিদ্যালয়ে নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে উপজেলার গাজীরহাট হাজী নঈম উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া ছাত্রীটি ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ২টার দিকে বিদ্যালয়ের ছুটি হয়। এরপর শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে চলে যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক একটি বাথরুমের ভেতর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান। কাছে গিয়ে তারা নারীকণ্ঠের গোঙানির শব্দ শুনে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করেন।
পরে তারা দেখতে পান, বাথরুমটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। এরপর শ্রমিকরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে ওই ছাত্রীকে হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তারা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসক মফিজুর রহমান শাফিনের চেম্বারে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, দুপুর ২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর নন্দিতা নামে ওই ছাত্রী বাথরুমে ঢুকেছিল। এ সময় পেছন থেকে কেউ তার মাথায় আঘাত করে। আঘাতে সে মাটিতে পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তার হাত, পা ও মুখ বেঁধে বাথরুমের ভেতরে ফেলে রেখে যায় বলে পরিবারের অভিযোগ।
ছাত্রীর মা শিমুল রায় অভিযোগ করেন, তার মেয়ের শরীরে একটি ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে কেটে তাকে রক্তাক্ত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ছাত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে। তবে হামলাকারীদের সে দেখতে পায়নি এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনাটি তদন্তে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, কী কারণে ওই ছাত্রীকে বাথরুমে আটকে রাখা হয়েছিল এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au