উত্তর কোরিয়ার হাতে ৫৭ পারমাণবিক ওয়ারহেড আছে, দাবি ট্রাম্পের।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট- উত্তর কোরিয়ার কাছে অন্তত ৫৭টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে চলতি বছরের শেষ দিকে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এই তথ্য জানান। তবে ট্রাম্পের দেওয়া সংখ্যাটি কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে কিংবা এটি মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প দেশটির কাছে ৫৭টি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকার কথা উল্লেখ করেন। পারমাণবিক ওয়ারহেড এমন একটি বিস্ফোরক ব্যবস্থা, যাতে পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে অত্যন্ত শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব।
কিম জং উনের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক বজায় থাকা একটি ইতিবাচক দিক। কিমকে একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি কিম জং উনকে খুব ভালোভাবে চেনেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একজন বুদ্ধিমান প্রেসিডেন্ট থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। একইসঙ্গে তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহন গিউ বাক দেশটির সংসদে জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে থাকা পারমাণবিক ওয়ারহেডের প্রকৃত সংখ্যা ৮০ থেকে ১২০টির মধ্যে হতে পারে। অর্থাৎ ট্রাম্পের দেওয়া ৫৭টি সংখ্যার তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়ার অনুমান অনেক বেশি।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। দেশটি তার পারমাণবিক কর্মসূচি ও অস্ত্রভাণ্ডার সম্পর্কে খুব সীমিত তথ্য প্রকাশ করে। ফলে বিভিন্ন দেশ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জানুয়ারি মাসের হিসাব অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রায় ৬০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির অনুমান অনুযায়ী, দেশটি এখনো বিশ্বের বড় পারমাণবিক শক্তিগুলোর তুলনায় অনেক ছোট অস্ত্রভাণ্ডারের অধিকারী।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার কাছে প্রায় ৪ হাজার ৪০০টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ৩ হাজার ৭০০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। চীনের কাছে রয়েছে প্রায় ৬২০টি। এছাড়া ফ্রান্সের কাছে ২৯০টি, যুক্তরাজ্যের ২২৫টি, ভারতের ১৯০টি, পাকিস্তানের ১৭০টি এবং ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
তবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা শুধু ওয়ারহেডের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্রের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়নও করে আসছে। এর ফলে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।
বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের জন্য উদ্বেগের বিষয়। ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে অতীতে একাধিকবার আলোচনা হলেও স্থায়ী কোনো সমঝোতা হয়নি।
এ অবস্থায় চলতি বছরের শেষ দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রকাশ পাওয়ায় সম্ভাব্য ওই বৈঠকে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি কতটা গুরুত্ব পাবে, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সুত্রঃ ফক্স নিউজ