হাসানের ৭ উইকেটে ওরচেস্টারশায়ারকে হারাল কেন্ট
ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে কেন্টকে জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট…
মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট- বরফ গলার কারণে তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত হয়ে ওঠা আর্কটিকের নর্দার্ন সি রুট বাণিজ্যিকভাবে কতটা কার্যকর, তা যাচাই করতে প্রথমবারের মতো এই পথে ইউরোপের উদ্দেশে একটি কনটেইনার জাহাজ পাঠাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির বুসান বন্দর থেকে যাত্রা করা জাহাজটি রাশিয়ার জলসীমা হয়ে ইউরোপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে পৌঁছাবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ২ হাজার ৭৫৮ টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনার জাহাজ ‘প্যানস্টার অ্যাক্রো’ শুক্রবার বুসান বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করার কথা। জাহাজটি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বের হয়ে রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের পূর্ব দিক ঘেঁষে এগিয়ে বেরিং সাগর অতিক্রম করবে। এরপর প্রবেশ করবে নর্দার্ন সি রুটে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহাজটি ইউরোপে পৌঁছে প্রথমে যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সস্টো, এরপর নেদারল্যান্ডসের রটারডাম এবং সবশেষে পোল্যান্ডের গদানস্ক বন্দরে যাবে। পুরো যাত্রায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং আর্কটিক অঞ্চলে নৌবাণিজ্য সম্প্রসারণকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারের মধ্যে রেখেছেন। দেশটির কর্মকর্তারা মনে করছেন, নর্দার্ন সি রুট নিয়মিত বাণিজ্যিক পথ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান বন্দরকে বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যেই ২০৩০ সালের মধ্যে আর্কটিক রুটকে নিয়মিত বাণিজ্যপথ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে দেশটি।
দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাব অনুযায়ী, সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপে পণ্য পরিবহনের তুলনায় আর্কটিকের নর্দার্ন সি রুট ব্যবহার করলে যাত্রার সময় প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে এই পথ নিয়মিতভাবে ব্যবহার করা গেলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে আর্কটিক রুটকে নিয়মিত বাণিজ্যপথ হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বরফের পরিস্থিতি, প্রতিকূল আবহাওয়া, উদ্ধার ও নৌ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবের কারণে সারা বছর এই পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করা সম্ভব হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
দক্ষিণ কোরিয়ার এই উদ্যোগ পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যেও কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজটি রাশিয়ার জলসীমা ব্যবহার করে ইউরোপে যাবে।
এ কারণে যাত্রার আগে দক্ষিণ কোরিয়া রাশিয়ার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। আর্কটিক অঞ্চলে বরফের কারণে জাহাজ আটকে গেলে রাশিয়ার সহায়তার প্রয়োজন হবে কি না, সে বিষয়েও দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে।
আর্কটিক অঞ্চলে বরফের পরিমাণ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নর্দার্ন সি রুটে জাহাজ চলাচলও ধীরে ধীরে বাড়ছে। নরওয়ের সেন্টার ফর হাই নর্থ লজিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এই রুট দিয়ে ৮৮টি জাহাজ মোট ১০৩ বার চলাচল করেছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৯৭টি এবং ২০২২ সালে ছিল ৪৩টি।
এখন পর্যন্ত রাশিয়া ও চীনের জাহাজই এই পথে সবচেয়ে বেশি চলাচল করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এবারের উদ্যোগকে তাই আর্কটিক রুটে দেশটির বাণিজ্যিক উপস্থিতি বাড়ানোর একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আর্কটিকের বরফ গলে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলীয় সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল তুলনামূলক সহজ হলেও এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল বাড়লে কার্বন নিঃসরণ ও অন্যান্য দূষণও বাড়তে পারে। এর ফলে আর্কটিক অঞ্চলের উষ্ণায়ন আরও ত্বরান্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহায়তায় পরিচালিত এবারের পরীক্ষামূলক যাত্রায় প্যানস্টার অ্যাক্রো প্রায় ৮৩৭ টিইইউ পণ্য বহন করবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে গাড়ির যন্ত্রাংশ, রাসায়নিক পণ্য এবং প্রায় ১০০টি খালি কনটেইনার।
এই পরীক্ষামূলক যাত্রার মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া মূলত আর্কটিকের নর্দার্ন সি রুটের বাস্তব বাণিজ্যিক সম্ভাবনা, যাত্রার সময়, নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নিতে চাইছে। সফল হলে ভবিষ্যতে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহনে এই রুটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার উদ্যোগ নিতে পারে দেশটি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au