দেশে সড়কে বছরে আহত ৩০ লাখ মানুষ, কেন এত দুর্ঘটনা
ওটিএন বাংলা ডেস্ক : দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর আহত হচ্ছেন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ। প্রাণ হারাচ্ছেন দৈনিক গড়ে ৬৬ জন, আর স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন…
থাইল্যান্ডের চোনবুরি প্রদেশে একটি কিন্ডারগার্টেনে ঢুকে শিক্ষিকা স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রদেশটির নং প্লা লাই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার সময় স্কুলে থাকা সব শিশুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য স্কুলে এসে প্রথমে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এরপর শ্রেণিকক্ষের বাইরে তাকে গুলি করেন। গুলিতে ঘটনাস্থলেই শিক্ষিকা নিহত হন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নং প্লা লাই উপ-জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সায়ান ক্লোমাওনকে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই এলাকারই একজন পুলিশ সদস্য। স্থানীয় সময় সকাল প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে তিনি স্কুলে এসে তার স্ত্রীকে গুলি করেন। গুলি করার আগে দুজনের মধ্যে কথা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, ঘটনাটি শ্রেণিকক্ষের বাইরে ঘটায় কোনো শিক্ষার্থী সরাসরি গুলির ঘটনা দেখেনি। স্ত্রীকে হত্যার পর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য নিজের বাড়িতে ফিরে যান।
পরে পুলিশ তার বাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং আত্মসমর্পণের জন্য তার সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। চোনবুরি প্রদেশের গভর্নর নারিস নিরামাইওং জানান, অভিযুক্ত যে বাড়িতে অবস্থান করছিল সেটি ঘিরে রাখা হয়েছে। তাকে আত্মসমর্পণে রাজি করাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে তার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গভর্নর নারিস নিরামাইওং জানান, স্কুল থেকে তিন শিক্ষক ও আরও তিন কর্মচারীসহ মোট ৪৪ শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর কিন্ডারগার্টনটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষ প্রভাবের কারণে শিশু ও স্কুলের কর্মীদের মানসিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর। বিশেষ করে যারা ঘটনার পর আতঙ্কিত বা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে, তাদের প্রয়োজনীয় মনোসামাজিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানার হার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় দেশটিতে মাঝেমধ্যেই গুলির ঘটনা ঘটে। অতীতে সরকার অস্ত্র আইন আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এ ধরনের সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে দেশটির উত্তরাঞ্চলে এক সাবেক পুলিশ সদস্য বন্দুক ও ছুরি নিয়ে একটি নার্সারিতে হামলা চালিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় ২৪ শিশু ও ১২ প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হন। ঘটনাটি থাইল্যান্ডের অন্যতম ভয়াবহ বন্দুক হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ ছাড়া সম্প্রতি দেশটিতে এক কিশোর তার দাদা-দাদিকে গুলি করার পর একটি স্কুলের পাঁচ কর্মী ও এক শিক্ষার্থীকে হত্যা করে এবং পরে নিজেও আত্মহত্যা করে। এসব ঘটনার পর দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au