বিশ্ব

রিপাবলিকানরা জিতলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

  • 2:19 am - September 11, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৬০ বার
রিপাবলিকানদের জাতীয় মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলনের প্রথম রাতে ৯০ মিনিটেরও বেশি সময় বক্তব্য দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। (রয়টার্স: ক্যালাঘান ও’হেয়ার)

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে দেশটির প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনকেন্দ্রিক জাতীয় সম্মেলনে দেওয়া দীর্ঘ বক্তৃতায় এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি এই অর্থকে ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ নামে অভিহিত করেছেন। তবে অর্থ কীভাবে দেওয়া হবে, এর অর্থের উৎস কী এবং কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘রিপাবলিকানরা জিতলে আপনারাও আমাদের সঙ্গে জিতবেন এবং ৫ হাজার ডলার পাবেন।’ এ সময় তিনি নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটারদের এমনভাবে ভাবতে বলেন, যেন তিনিই ব্যালটে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন।

ট্রাম্পের এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে এর সম্ভাব্য ব্যয় হতে পারে ১ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। রয়টার্সের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ থাকায় প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার করে দিলে মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

এর আগে ট্রাম্প শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্বের অর্থ জনগণের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার মতো বিভিন্ন ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়ার ধারণা সামনে এনেছিলেন। তবে এবারের প্রস্তাবের অর্থায়ন কীভাবে হবে, তা স্পষ্ট নয়। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পরে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ধনী আমেরিকানদের এই অর্থের আওতার বাইরে রাখা হতে পারে এবং শুল্ক থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে এর একটি অংশ অর্থায়নের কথা ভাবা হচ্ছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান দলের তৃণমূল সমর্থক ও দলীয় দাতাদের উজ্জীবিত করাই এই সম্মেলনের লক্ষ্য। (রয়টার্স: ইভান ভুচি)

যুক্তরাষ্ট্রের আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের। তবে বিভিন্ন জরিপে ডেমোক্র্যাটদের দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের পক্ষে প্রচারে ট্রাম্প নিজেকেই বড় করে তুলে ধরছেন। সম্মেলনে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি ব্যালটে আছি—এমনটা ধরে নিন।’

প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টার বক্তৃতায় ট্রাম্প তাঁর সরকারের সাফল্যের প্রশংসা করার পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা করেন। ডেমোক্র্যাটদের ‘উগ্র’, ‘কমিউনিস্ট’ ও ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে তুলে ধরে তাঁদের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ গেলে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক করেন তিনি।

রিপাবলিকানদের সম্মেলনের বক্তৃতাগুলোতেও অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা, অপরাধ এবং খেলাধুলায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণের মতো সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইস্যু গুরুত্ব পায়। এর বিপরীতে জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি ও শুল্কনীতির মতো বিষয় তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পায়।

রিপাবলিকান দলের সম্মেলনে ভিডিও বার্তায় নিজেকে ‘বাস্তববোধসম্পন্ন ডেমোক্র্যাট’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন জন ফেটারম্যান। (রয়টার্স: ব্রায়ান স্নাইডার)

সম্মেলনে ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকেও সামনে আনে রিপাবলিকানরা। পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান একটি চমকপ্রদ ভিডিও বার্তায় নিজেকে ‘কমন-সেন্স ডেমোক্র্যাট’ হিসেবে তুলে ধরেন এবং দলের বামপন্থী ও সমাজতান্ত্রিক ধারার সমালোচনা করেন।

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য টেক্সাসে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। (রয়টার্স: ক্যালাঘান ও’হেয়ার)

ভিডিওতে তিনি পেনসিলভানিয়ার রিপাবলিকান সিনেটর ডেভ ম্যাককরমিককে নিজের বন্ধু হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁর এমন অবস্থান ডেমোক্র্যাট পার্টির মধ্যপন্থী অংশ এবং ক্রমশ প্রভাবশালী হয়ে ওঠা বামপন্থী অংশের বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করেছে।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং মিশিগানের সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের মতো নেতাদের ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের বামপন্থী রাজনীতি নিয়েও রিপাবলিকানরা প্রচারে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার জন্য ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়লেও যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম কমে যাবে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে সম্মেলনে ট্রাম্পের শুল্কনীতি, অর্থনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির মতো তাঁর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদক্ষেপগুলো তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হয়েছে। বরং ডেমোক্র্যাটদের আক্রমণ এবং সংস্কৃতি ও অভিবাসনকেন্দ্রিক ইস্যুই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।

সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের দলীয় জাতীয় সম্মেলন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বছরেই বেশি দেখা যায়। কিন্তু এবার মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকানরা দলীয় কর্মী, সমর্থক ও দাতাদের উজ্জীবিত করতে বিশেষ এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

ট্রাম্প বৃহস্পতিবারও সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না, সেই লড়াইয়ে তাঁর ৫ হাজার ডলারের ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ প্রতিশ্রুতি এখন অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

সূত্র:এবিসি নিউজ

এই শাখার আরও খবর

সিপিবির মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে হামলা, মারধর

ঢাকায় পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন…

হুজুরদের ভয়ে শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়লেন যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুর বাবা শাহজালাল রুমি

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী মেয়েশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় আলোচনায় আসা বাবা বডিবিল্ডার শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে…

ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার ও অপসারণের দাবি জানল টিআইবি

সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ার করবে বলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি…

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক, সৌদিকে সামরিক সহায়তা দেবে মিসর

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনা কমাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে বৈঠক করেছেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে…

রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হামলার দাবি হুতিদের, পাল্টা অভিযানে সৌদি জোট

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পাম্পিং স্টেশনগুলোতে ড্রোন হামলার দাবি…

সুনামগঞ্জে পুলিশের উপস্থিতিতে কৃপেশ রায়ের বাড়িতে মব, পরে গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হিন্দু যুবক কৃপেশ রায়ের বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতিতে একদল লোক জড়ো হয়ে মব সৃষ্টি করেছে। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au