আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে রাশেদ খাঁনের নানা অভিযোগ
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাবেক সংসদ সদস্যদের ‘প্রটেকশন’ ও পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব…
প্রিন্সেস ডায়ানার পরা বিখ্যাত কালো পোশাক, যা বিশ্বজুড়ে ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ বা ‘প্রতিশোধের পোশাক’ নামে পরিচিত, এবার আবারও নিলামে উঠছে। ১৯৯৪ সালে লন্ডনের সার্পেন্টাইন গ্যালারির একটি অনুষ্ঠানে ডায়ানা যে কাঁধখোলা কালো সিল্কের পোশাকটি পরেছিলেন, সেটি তাঁর জীবনের অন্যতম আলোচিত মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সোথবিস জানিয়েছে, আগামী ৯ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে পোশাকটির নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। এর দাম সর্বোচ্চ ২ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
১৯৯৪ সালের সেই রাতটি ছিল ডায়ানার জীবনের অত্যন্ত আলোচিত একটি সময়। সার্পেন্টাইন গ্যালারির তহবিল সংগ্রহের নৈশভোজে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তাঁর তৎকালীন বিচ্ছিন্ন স্বামী প্রিন্স চার্লস একটি টেলিভিশন তথ্যচিত্রে স্বীকার করেন, তিনি ডায়ানার প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন না। যদিও এর আগে বহু বছর ধরে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন ও পরকীয়া নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল।
চার্লসের ওই বক্তব্য প্রচারের রাতেই ডায়ানা অনুষ্ঠানে হাজির হন আকর্ষণীয় সেই কালো পোশাকে। কাঁধখোলা নকশা, অসম নিচের অংশ এবং পেছনে শিফনের দীর্ঘ ট্রেনের কারণে পোশাকটি ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। এর সঙ্গে তিনি পরেছিলেন রাজকীয় নেকলেস, কালো ক্লাচ ব্যাগ ও কালো হিল। তাঁর সেই আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি মুহূর্তেই সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের নজর কেড়ে নেয়।
ডায়ানার তৎকালীন স্টাইলিস্ট অ্যানা হার্ভের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন রাজকুমারী অসাধারণ ও আকর্ষণীয় দেখাতে চেয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তিনি নিজের পোশাকের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন। ভ্যালেন্টিনোর একটি গাউন বাদ দিয়ে গ্রিক ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্ট্যামবোলিয়ানের তৈরি কাঁধখোলা কালো পোশাকটি বেছে নেন।
পরে ওই পোশাকটি ডায়ানার জীবনের আলোচিত রাতের প্রতীক হয়ে ওঠে। অনেকেই তাঁর ওই উপস্থিতিকে স্বামীর বক্তব্যের নীরব জবাব হিসেবে দেখেছিলেন। ফ্যাশন ইতিহাসেও পোশাকটি জায়গা করে নেয় এবং পরবর্তী সময়ে ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
সোথবিসের হ্যান্ডব্যাগ ও ফ্যাশন বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান মরগ্যান হালিমি বলেন, ডায়ানা বুঝতে পেরেছিলেন ফ্যাশনও একটি শক্তিশালী ভাষা হতে পারে। নিজের পোশাক নির্বাচনের মাধ্যমে জীবনের একটি অত্যন্ত আলোচিত সময়ে তিনি নিজের গল্পের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়েছিলেন।
১৯৯৭ সালে মৃত্যুর কয়েক মাস আগে দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে ডায়ানা নিজেই তাঁর ৭৯টি পোশাক নিলামে তুলেছিলেন। সেই নিলামে ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’টিও বিক্রি হয়। গ্লাসগোর বাসিন্দা ব্রিজ ম্যাকেঞ্জি ও তাঁর স্বামী গ্রায়েম পোশাকটি ৩৯ হাজার ৯৮ পাউন্ডে কিনেছিলেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় তখন এর মূল্য ছিল প্রায় ৬৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা।
ব্রিজ ম্যাকেঞ্জি সে সময় জানিয়েছিলেন, পোশাকটি নিজেরা পরার জন্য তাঁরা কেনেননি। ‘চিলড্রেন ফার্স্ট’ নামের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই পোশাকটি কেনা হয়েছিল। এমনকি মজা করে তিনি বলেছিলেন, পোশাকটি তাঁর গায়ে হবে না।
সম্প্রতি দেওয়া এক বিবৃতিতে ব্রিজ ম্যাকেঞ্জি বলেন, তিনি ও তাঁর প্রয়াত স্বামী জানতেন পোশাকটি বিশেষ কিছু। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ডায়ানা তখন জীবনের একটি ভয়াবহ রাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, অথচ তাঁকে দেখে তা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। ছবি তোলার অল্প সময়ের মধ্যেই পোশাকটি একটি সাধারণ ককটেল ড্রেস থেকে অনন্য এক প্রতীকে পরিণত হয়।
স্বামীর মৃত্যুর পর পোশাকটি আবার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন ব্রিজ ম্যাকেঞ্জি। প্রায় তিন দশক পরও পোশাকটির পরিচিতি কতটা বিস্তৃত, সে কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, বিশ্বের যেকোনো জায়গায় এই পোশাকের কথা বললে মানুষ বুঝতে পারে কোন পোশাকটির কথা বলা হচ্ছে।
এবারের নিলামে পোশাকটির সঙ্গে ১৯৯৭ সালের নিলামের একটি দুর্লভ ক্যাটালগও বিক্রি করা হবে। ক্যাটালগটিতে ডায়ানা ও পোশাকটির ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্ট্যামবোলিয়ানের স্বাক্ষর রয়েছে। সোথবিস জানিয়েছে, পোশাকটি নিলামে তোলার ধারণা দিয়েছিলেন ডায়ানার ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম।
নিলামের আগে পোশাকটি বিশ্বের বিভিন্ন শহরে প্রদর্শন করা হবে। ১৮ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনে সোথবিসের শোরুমে এটি রাখা হবে। এরপর অক্টোবরের শুরুতে হংকং এবং নভেম্বরের শুরুতে জেনেভায় প্রদর্শনের পর পোশাকটি নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। সেখানেই চূড়ান্ত নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।
এবার বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ এনএইচএস লোথিয়ান চ্যারিটির মাধ্যমে রয়্যাল এডিনবরা হাসপাতালকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সোথবিস।
ডায়ানার স্মরণীয় ওই রাতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আরেকটি জিনিস, একটি ভিনটেজ জাগুয়ার এক্সজে৪০ গাড়িও চলতি বছরের শুরুতে নিলামে বিক্রি হয়েছে। গাড়িটির দাম উঠেছিল ৬৬ হাজার ২৫০ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকা।
এর আগেও ডায়ানার পোশাক নিলামে রেকর্ড দামে বিক্রি হয়েছে। ২০২৩ সালে নিউইয়র্কে সোথবিসের নিলামে তাঁর একটি কালো ভেড়ার নকশার সোয়েটার ৯ লাখ ২০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য ছিল প্রায় ১৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
এবার ডায়ানার বহুল আলোচিত ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ কত দামে বিক্রি হয়, সেদিকেই নজর ফ্যাশনপ্রেমী ও রাজপরিবারের অনুসারীদের।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au