ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টা: বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি বন্ধের নেপথ্য রাজনীতি
ইতিহাস কোনো নিছক কালপঞ্জি বা অতীতের মৃত দলিল নয়; ইতিহাস হলো একটি জাতির আত্মপরিচয়ের দর্পণ, অস্তিত্বের মূল শেকড়। সেই শেকড়েই যখন কুঠারাঘাত করা হয়, তখন…
ইরাক থেকে সব সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইতালি। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে ইতালির প্রায় ১২ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান হলো। নির্ধারিত ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমার আগেই প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইতালি।
মঙ্গলবার ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইরাক থেকে ইতালির সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে। এখন থেকে ইরাকে ইতালির কোনো সামরিক উপস্থিতি থাকবে না। দেশটির নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি ইরাকের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী পালন করবে।
ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, ইরাক ও দেশটির মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করেই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ইতালির সেনা প্রত্যাহার হলেও ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’ এবং ‘ন্যাটো মিশন ইরাক’-এর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ন্যাটোর মিশনটি আপাতত ইতালির নেপলসের কাছে একটি ঘাঁটি থেকে পরিচালিত হবে।
গত ১২ বছরে হাজার হাজার ইতালীয় সেনা ইরাকে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ছিল ইসলামিক স্টেট বা আইএসআইএস, যাকে দায়েশ নামেও ডাকা হয়, তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে সহায়তা করা। পাশাপাশি ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে দেশটির সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজও করেছেন ইতালীয় সেনারা।
গুইদো ক্রোসেত্তো বলেন, সেনা প্রত্যাহার করা হলেও ইরাকের সঙ্গে ইতালির সহযোগিতা বন্ধ হচ্ছে না। প্রশিক্ষণ, বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময় এবং ইরাকের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইতালি ভবিষ্যতেও সহযোগিতা করবে।
ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চের মধ্যেই দেশটির অধিকাংশ সেনাকে ইরাক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরামর্শক মিশন ‘ইইউএএম ইরাক’-এর অংশ হিসেবে দুইজন ইতালীয় কারাবিনিয়েরি সদস্য এখনও ইরাকে অবস্থান করছেন।
এদিকে ইরাকের সর্বশেষ ঘাঁটিগুলো থেকেও বুধবার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিরও অবসান ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ২০১১ সালে ইরাক থেকে বড় আকারে সেনা প্রত্যাহার করেছিল। তবে ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে দেশটিতে আবারও সেনা মোতায়েন করে ওয়াশিংটন। দীর্ঘ সময়ের এই সামরিক উপস্থিতিতে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘটনাকে ইরান ও দেশটির মিত্র গোষ্ঠীগুলো নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে। তবে ইরাক থেকে সামরিক উপস্থিতি শেষ হলেও দেশটির অর্থনীতি ও তেল খাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। বিশেষ করে ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এখনও রয়েছে।
ইতালির সেনা প্রত্যাহারের ফলে ইরাকে দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতির একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তবে সামরিক উপস্থিতি শেষ হলেও প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরাকের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au