ভারতের বিপক্ষে রাফিনহাকে পাচ্ছে না ব্রাজিল
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জয় পেলেও ব্রাজিল শিবিরে এসেছে দুশ্চিন্তার খবর। ডান ঊরুর পেশিতে অস্বস্তির কারণে ভারতের বিপক্ষে পরবর্তী প্রীতি ম্যাচে খেলতে পারবেন না দলের…
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান। নিরাপত্তা পরিষদের চতুর্থ দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটেও সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন তিনি। তবে চূড়ান্তভাবে মহাসচিব হতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের পাশাপাশি পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কোনো দেশের ভেটো এড়াতে হবে। ফলে এখনো নিশ্চিত নয়, শেষ পর্যন্ত কে জাতিসংঘের শীর্ষ পদে দায়িত্ব নেবেন।
মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে চতুর্থ দফার গোপন ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে রেবেকা গ্রিনস্প্যান ১০টি ‘সমর্থন’ ভোট পেয়েছেন। তার বিপক্ষে ভোট পড়েছে তিনটি এবং দুজন কোনো মতামত দেননি। চার দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেলেন তিনি।
রেবেকা গ্রিনস্প্যান বর্তমানে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা ইউএনটিএডির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টও। জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় তার প্রার্থিতা জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত রয়েছে।
চতুর্থ দফার ভোটে গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট এবং আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি ৮টি করে ‘সমর্থন’ ভোট পেয়েছেন। রাফায়েল গ্রোসি বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। তার পর নতুন মহাসচিব দায়িত্ব নেবেন। বর্তমানে এই পদে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে চারজন নারী ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন।
প্রার্থীদের মধ্যে রেবেকা গ্রিনস্প্যান, রাফায়েল গ্রোসি, ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট, মাকি সাল, মারিয়া ফের্নান্দা এস্পিনোসা এবং ওলারাহ ওতুনুসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনে নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ সনদের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদ নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে মহাসচিব নিয়োগ করে। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে কোনো প্রার্থীকে কমপক্ষে নয়টি ভোট পেতে হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া এই পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কোনো দেশের ভেটো পাওয়া যাবে না।
বর্তমানে যে ‘স্ট্র পোল’ বা মতামত যাচাইয়ের ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেটি আনুষ্ঠানিক নির্বাচন নয়। প্রার্থীদের প্রতি নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সমর্থনের মাত্রা বোঝার জন্য এই ভোট নেওয়া হয়। প্রতিটি সদস্য কোনো প্রার্থীর বিষয়ে ‘সমর্থন’, ‘বিরোধিতা’ অথবা ‘কোনো মতামত নেই’ এই তিন ধরনের অবস্থান জানাতে পারেন।
চতুর্থ দফার ভোটে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ব্যালটে আলাদা কোনো চিহ্ন রাখা হয়নি। ফলে গ্রিনস্প্যানের বিপক্ষে যে তিনটি ভোট পড়েছে, তার মধ্যে কোনোটি স্থায়ী পাঁচ সদস্যের কাছ থেকে এসেছে কি না, তা প্রকাশ্যে জানা যায়নি। এ কারণে ভোটে এগিয়ে থাকলেও তার চূড়ান্ত নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
আগামী দিনগুলোতে মহাসচিব নির্বাচন নিয়ে আরও কয়েক দফা অনানুষ্ঠানিক ভোট হতে পারে। এরপর নিরাপত্তা পরিষদ কোনো একজন প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সুপারিশ করলে সেই প্রার্থীর নাম অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে।
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনের সময় বিশ্বের বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়। এবারের প্রার্থীদের মধ্যে লাতিন আমেরিকার একাধিক প্রার্থী থাকায় আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আলোচনায় রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কে মহাসচিব হবেন, তা নির্ধারণে নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক সুপারিশ এবং স্থায়ী সদস্যদের অবস্থানই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au