অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে রক্ষণশীল রাজনৈতিক নেতাদের সম্মেলন ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সের (সিপ্যাক) অস্ট্রেলিয়া শাখার সম্মেলন চলাকালে অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে বিক্ষোভ করেন একদল প্রতিবাদকারী। অন্যদিকে সম্মেলনকক্ষের ভেতরে ওয়ান নেশন পার্টির নেত্রী পলিন হ্যানসনের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ডটকম ডটএইউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিসবেনের রয়্যাল ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রায় দুই হাজার মানুষের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণশীল রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও নীতিগত অবস্থান তুলে ধরছেন।
শনিবার সকাল থেকেই সম্মেলনস্থলের বাইরে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের স্থাপন করা ব্যারিকেডের পেছনে দাঁড়িয়ে তাঁরা ঢোল বাজিয়ে এবং স্লোগান দিয়ে ওয়ান নেশন পার্টির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্মেলনস্থলের আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
এদিকে সম্মেলনের মূল মঞ্চে বক্তব্য দেন ওয়ান নেশন পার্টির নেত্রী পলিন হ্যানসন, লিবারেল পার্টির নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর এবং ন্যাশনালস পার্টির নেতা ম্যাট ক্যানাভান। অনুষ্ঠানে অংশ নেন জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক ও পডকাস্ট সঞ্চালক কার্ল স্টেফানোভিচও।
সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন পলিন হ্যানসন। তিনি মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সমর্থকেরা করতালি ও উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান। তাঁর বক্তব্যের সময় সম্মেলনকক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
বক্তব্যে হ্যানসন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান লেবার সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে প্রয়োজন হলে বিরোধী জোটের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
হ্যানসন লেবার সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত আখ্যা দিয়ে বলেন, সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।
তবে তিনি ওয়ান নেশন পার্টির সঙ্গে বিরোধী জোটের আনুষ্ঠানিক একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেন। একই সঙ্গে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংসদীয় সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে তাঁর অবস্থান তুলে ধরেন।
অন্যদিকে লিবারেল পার্টির নেতা অ্যাঙ্গাস টেলরকে সম্মেলনের মঞ্চে দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।
উপস্থাপক কার্ল স্টেফানোভিচ লিবারেল পার্টির রাজনৈতিক কৌশল এবং বিরোধী দল হিসেবে তাদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ সময় দর্শকদের মধ্য থেকেও কয়েকজন টেলরের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন।
সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তি ও ডিজিটাল নীতিমালা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে প্রযুক্তিসংক্রান্ত একটি প্রস্তাবিত আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কয়েকজন বক্তা। তাঁদের অভিযোগ, এ ধরনের আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে।
তবে সম্মেলনের প্রথম দিনের রাজনৈতিক আলোচনা শেষে ভিন্নধর্মী এক আয়োজন উপস্থিত দর্শকদের বিনোদন দেয়।
দিনের শেষ পর্বে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজির অনুকরণে একজন কৌতুকশিল্পী মঞ্চে উপস্থিত হন। প্রধানমন্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি লেবার ও লিবারেল পার্টির রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্য দেন।
কৌতুকশিল্পী লিবারেল পার্টিকে উদ্দেশ করে বলেন, লেবার পার্টির জন্য সবচেয়ে বড় অপ্রত্যাশিত সুবিধা হয়ে উঠেছে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ লিবারেল পার্টি। তাঁর ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য অনুযায়ী, বিরোধী দল কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারায় ক্ষমতাসীনদের খুব বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছে না।
তিনি আরও রসিকতা করে লিবারেল ও লেবার পার্টিকে একীভূত হয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রস্তাব দেন। কল্পিত সেই জোটের নামও ঘোষণা করেন তিনি, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি করে।
এদিকে সম্মেলনস্থলের বাইরে বিক্ষোভকারীদের অবস্থান এবং ভেতরে রক্ষণশীল নেতাদের রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রিসবেনের রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল আলোচনামুখর।
যুক্তরাষ্ট্রের কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সের আদলে আয়োজিত অস্ট্রেলিয়ার এই সম্মেলনে রক্ষণশীল রাজনীতির ভবিষ্যৎ, বিরোধী দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রথম দিনের আয়োজন শেষে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর রয়েছে সম্মেলনের পরবর্তী দিনের আলোচনা এবং রক্ষণশীল দলগুলোর ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনার দিকে।
সূত্র: নিউজ ডটকম