বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ভারত ছাড়ার নোটিশ পেলেন অভিনেতা ইমরান খান।
মুম্বাইয়ে রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দিয়েছে দেশটির পুলিশ। গত সপ্তাহে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা আন্দোলনের সমর্থনে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারতের অভিবাসন ও বিদেশি আইন, ২০২৫-এর কয়েকটি ধারার আওতায় নোটিশটি জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাট্রিবিউন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইমরান খান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং তাঁর কাছে ভারতের ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ড রয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্তে ভারতে প্রবেশ ও বসবাসের কিছু সুবিধা পাওয়া গেলেও এটি ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয় না। ফলে ওসিআই কার্ডধারীরা আইন অনুযায়ী বিদেশি নাগরিক হিসেবেই বিবেচিত হন।
কোন ধারায় নোটিশ?
ভারতের অভিবাসন ও বিদেশি আইন, ২০২৫-এর ৭ নম্বর ধারায় কেন্দ্রীয় সরকারকে বিদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশ, অবস্থান, চলাচল ও দেশত্যাগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ২৯ নম্বর ধারায় আইনের বিধান লঙ্ঘন কিংবা নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিরূপ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিদেশি নাগরিককে ভারত থেকে অপসারণের নির্দেশ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন ইমরান খান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী ও তাঁর সঙ্গী লেখা ওয়াশিংটন এবং তাঁর মামাতো বোন জায়েন মেরি খান।
বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ তাঁদের আটক করে। পরে অবশ্য তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আটকের সময় পুলিশের গাড়ির ভেতর থেকে নিজের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে ইমরান খান লিখেছিলেন, ‘মনে হচ্ছে আমি ড্রাইভে যাচ্ছি।’
এদিকে, রাজনৈতিক বিক্ষোভে ইমরান খানের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন বিজেপি নেতা কিছিত সোমাইয়া।
ওসিআই কার্ড কী?
বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করা ভারতীয় বংশোদ্ভূত যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য ২০০৫ সালে ওসিআই কার্ড চালু করা হয়। এ কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট শর্তে দীর্ঘমেয়াদে ভারতে প্রবেশ ও অবস্থানসহ কিছু বিশেষ সুবিধা পান। তবে তাঁরা ভারতের নাগরিক নন এবং আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে অভিবাসনসংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
ইমরান খানের ক্ষেত্রে ভারত ছাড়ার নোটিশ জারির বিষয়টি রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশগ্রহণের পর সামনে এসেছে। তবে নোটিশে উল্লেখিত নির্দিষ্ট অভিযোগ ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।
সূত্র: এনডিটিভি