মেগান জানিয়েছেন, এসব অভিযোগের কারণে প্রিন্স হ্যারি ও তিনি দূরত্ব বজায় রেখেছেন। ছবি: কার্স্টি উইগলসওর্থ / পুল / এএফপি
বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়রকে ঘিরে শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও রাখার অভিযোগের তদন্ত শুরুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর মুখ খুলেছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক সদস্য ও ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল। তিনি বলেছেন, অভিযোগগুলো তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। একই কারণে নিজের দুই সন্তানকে দাদার সংস্পর্শ থেকে দূরে রেখেছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম news.com.au-কে মেগানের মুখপাত্রের মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে মেগান বলেন, লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং রাজপরিবারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশেষায়িত ইউনিটের কাছে পাঠানো একটি চিঠি তাঁর কাছে পাঠানো হলে তিনি প্রথম অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে পারেন।
মেগান বলেন, ওই চিঠিতে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে ‘উদ্বেগজনক ও বিচলিত করার মতো অভিযোগ’ তোলা হয়েছিল। তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে তাঁদের পারিবারিক দূরত্বের বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল বাবার সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখা এবং তাঁকে সন্তানদের সংস্পর্শে আসতে না দেওয়ার একমাত্র কারণ।
মেগানের দুই সন্তান আর্চি ও লিলিবেটের বয়স যথাক্রমে সাত ও পাঁচ বছর। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, এখন বোঝা যাবে যে বাবার কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এবং তাঁকে আমাদের সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তের একমাত্র কারণ ছিল তাদের সুরক্ষা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করেছিলাম, কর্তৃপক্ষ অন্য পরিবারগুলোর শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টিও একইভাবে দেখছে।’
সম্ভাব্য নির্যাতনের শিকার শিশুদের কথা উল্লেখ করে মেগান বলেন, তাঁদের প্রতি তাঁর সহমর্মিতা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
মেগানের ভাষায়, ‘এখন পর্যন্ত যা প্রকাশ্যে এসেছে, তার ব্যাপ্তি কল্পনার চেয়েও বেশি অসুস্থকর।’ তিনি বলেন, তাঁর আন্তরিক প্রত্যাশা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং নিরপরাধ শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

এই অভিযোগের কারণেই মেগান ও প্রিন্স হ্যারির সন্তানদের সঙ্গে থমাস মার্কেল সিনিয়রের কোনো যোগাযোগ নেই। ছবি: ইনস্টাগ্রাম/মেগান মার্কেল
ফিলিপাইনে বাবার বাড়িতে ছবি রাখার অভিযোগ
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮২ বছর বয়সী থমাস মার্কেল সিনিয়রের সঙ্গে মেগানের প্রায় আট বছর ধরে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন। অভিযোগ উঠেছে, ফিলিপাইনে তাঁর বাবার বাড়িতে শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত আপত্তিকর ছবির একটি বড় সংগ্রহ রাখা হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেগানের সৎভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র তাঁর বাবার বাড়িতে ‘শত শত, এমনকি হাজার হাজার’ ছবি খুঁজে পান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান।
দ্য সান-এর খবরে বলা হয়েছে, থমাস জুনিয়র তাঁর বাবার বাড়িতে এ ধরনের ছবি ও ভিডিওর চারটি বড় বাক্স খুঁজে পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর তিনি ফিলিপাইনের সেবু শহরের স্থানীয় গোয়েন্দাদের বিষয়টি জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা কিংবা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, সে সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
বাবার পক্ষ নিয়ে যা বললেন মেগানের সৎবোন
এদিকে মেগানের সৎবোন সামান্থা মার্কেল তাঁর বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, থমাস মার্কেল জুনিয়র তাঁর বাবাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।
ডেইলি মেইলকে সামান্থা বলেন, তাঁর বাবার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তাঁর ভাই বাবাকে ধ্বংস করতে চাইছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সামান্থার দাবি, কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁর ভাই একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন, যখন তাঁদের বাবার কাছ থেকে তাঁর আর্থিক সহায়তা পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে থমাস জুনিয়র বাবার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন এবং সেই অর্থ বন্ধ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের কাছে অর্থ পাওয়ার আশায় নতুন অভিযোগ তুলেছেন।
তবে সামান্থার এসব বক্তব্যও তাঁর ব্যক্তিগত দাবি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।
থমাস মার্কেল সিনিয়রকে ঘিরে অভিযোগ, মেগানের বক্তব্য এবং তাঁর সৎভাই ও সৎবোনের পরস্পরবিরোধী দাবির বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সূত্র: নিউজ.কম.এইউ