অবশেষে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু, প্রথম দিন গেলেন ৮৩৬ পর্যটক
অবশেষে সব অনুমোদন জটিলতা কাটিয়ে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে শুরু হয়েছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ৮৩৬ পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে যায়…
পাবনার সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুপ্রভা রাণীকে কার্যালয়ে আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ রেখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুর বিরুদ্ধে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও কঠিন শর্ত আরোপের অভিযোগ তুলে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী চিকিৎসকের।
এ ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাণভয়ের কারণে কর্মস্থলে যেতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন ডা. সুপ্রভা রাণী। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু। তার দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে তারা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। কাউকে অবরুদ্ধ করা বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
ডা. সুপ্রভা রাণী জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর ই-জিপি পদ্ধতিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএসআর খাতের ছয়টি প্যাকেজে ৮০ লাখ ৭৬ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও ই-জিপি নীতিমালা অনুসরণ করে অনলাইনে দরপত্র মূল্যায়ন শেষে গত ২ নভেম্বর চারটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় কয়েকজন নেতা দরপত্রের শর্ত কঠিন হয়েছে দাবি করে তা বাতিলের জন্য চাপ দিতে থাকেন।
তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার কনফারেন্স রুমে সভায় ব্যস্ত থাকার সময় হঠাৎ সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুর নেতৃত্বে আট থেকে দশজনের একটি দল তার দাপ্তরিক কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ঘুরিয়ে দেয়। পরে তারা কক্ষে প্রবেশ করে দরজা ভেতর থেকে আটকে দেন এবং টেন্ডার বাতিলের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। আমি রাজি না হওয়ায় তারা নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান। অফিসের বাইরে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং প্রাণনাশের আশঙ্কা করছি।’
তিনি আরও জানান, বিষয়টি মৌখিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছেন। পাশাপাশি পাবনার সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কয়েকজন অফিস সহকারী ও কর্মচারী জানান, আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ রেখে টেন্ডার বাতিলের জন্য চাপ দেওয়া হয়। তবে নিরাপত্তার কারণে তারা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ওয়াসিম খান বলেন, ‘যারা টেন্ডার পাননি, তারা মঙ্গলবার ম্যাডামকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছিলেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন। আমি ওপর থেকে নেমে এসে দেখি, সিসিটিভি ক্যামেরা ঘুরিয়ে রাখা হয়েছে। পরে থানায় খবর দিলে ওসি সাহেব আসেন।’
টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি মূল্যায়ন কমিটির সদস্য হলেও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো যেতে পারে। কিন্তু হাসপাতালে এভাবে চিৎকার-চেঁচামেচি করা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।’
অভিযোগ অস্বীকার করে সুজানগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। বৈধ ঠিকাদারি লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় কাউকে কাজ না দিয়ে গোপনে অন্য জেলা, বিশেষ করে ঝিনাইদহ থেকে লোক এনে কমিটি করা হয়েছে। পাশাপাশি দরপত্রে বিশেষ কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু নিয়মের কথা বলতে গিয়েছিলাম। তাকে অবরুদ্ধ করা হয়নি কিংবা প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়নি। ওসি সাহেবও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নিজের দুর্নীতি আড়াল করতেই ওই কর্মকর্তা এখন মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।’
পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সুজানগরে নিয়ম মেনেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে আমি জানি। সম্প্রতি টেন্ডার না পেলে বিভিন্ন দপ্তরে এ ধরনের হেনস্তা ও হয়রানিমূলক আচরণের ঘটনা ঘটছে। এর আগে আমিও এ ধরনের হেনস্তার শিকার হয়েছি। এসব আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপাতত ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কয়েকদিন নিরাপদে থাকুন। এ বিষয়ে আমরা দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেব।’
সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে ফোন করে আমাকে ডাকা হয়। সেখানে গিয়ে কয়েকজনকে দেখতে পাই। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তিনি আমাকে জানাননি। পরে আমি নামাজ পড়তে যাওয়ার পর জানতে পারি, তিনি চলে গেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au