মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করে (ফাইল ছবি)
মেলবোর্ন, ১৫ মে—মালয়েশিয়া আগামী কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে—বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
আজ (১৫ মে) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে যৌথ বৈঠকে এ অগ্রগতি হয়।
আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বৈঠকে দুটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়: মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মজুরি ও সুবিধা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ ও নৈতিক নিয়োগ কাঠামোর আওতায় নতুন কর্মী নিয়োগের একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া নির্ধারণ।
এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “মালয়েশিয়ান নিয়োগকারীদের চাহিদার ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। এতে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।”
সমঝোতার আওতায় আগামী কয়েক বছরে মালয়েশিয়া কয়েক লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেবে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ২০ হাজারের বেশি কর্মী কোনও প্রকার খরচ ছাড়াই নিয়োগ পেতে পারেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া এবং উপসচিব মো. সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি ১৪ মে মালয়েশিয়া পৌঁছায়। লক্ষ্য—দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার পুনরুজ্জীবন ও স্থিতিশীলতা আনা।
আজকের আলোচনার বিষয়ে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়া শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। সিদ্ধান্তটি ২১ মে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় যৌথ কর্মপর্ষদ সভায় চূড়ান্ত হতে পারে।”
অবৈধ অভিবাসীদের নিয়মিতকরণ বিষয়ে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আজ সন্ধ্যায় মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি বৈঠক রয়েছে। আমরা আশাবাদী।”
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনের কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় মালয়েশিয়ায় সাধারণ কর্মীদের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ। “যদি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়, এই শ্রমবাজার আমাদের রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে,” বলেন এক কর্মকর্তা।
তবে নিয়োগ খাতের জটিলতা, বিশেষ করে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মধ্যে বিরোধ—এখনও চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এসব কারণে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বিলম্ব হয়েছে, যদিও উভয় দেশের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টা এ প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ করছে।
এক মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা বলেন, “এজেন্সির বাণিজ্যিক স্বার্থ নয়, অভিবাসী কর্মীদের স্বার্থ অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্বচ্ছ ও বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া শ্রমিক ও দেশ উভয়ের জন্য উপকারী।”
সরকার নির্দিষ্ট কোনও রিক্রুটিং এজেন্সিকে নিয়োগ চুক্তি দিতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিদেশি চাকরি সংগ্রহ করা এজেন্সির দায়িত্ব। চাকরি পেলে সরকার অনুমোদন দেবে। এটাই আন্তর্জাতিক নিয়ম।”
তিনি আরও বলেন, কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর রাজনৈতিক আন্দোলন, মিডিয়া ক্যাম্পেইন এবং অযৌক্তিক মামলাগুলি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। “বৈধ অভিবাসনের পরও মানব পাচার ও অর্থপাচার আইনে মামলা হলে গন্তব্য দেশগুলোর মধ্যে ভুল বার্তা যায়।”
“গন্তব্য দেশগুলো বাংলাদেশে কী ঘটছে, তা পর্যবেক্ষণ করছে। সঠিক প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর পর এমন মামলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে,” বলেন আরেক কর্মকর্তা।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রয়োজনে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ অভিবাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন নীতিনির্ধারকরা।
“সংস্কারকৃত ও নৈতিক নিয়মের আওতায় শ্রমবাজার খুলে দেওয়া বাংলাদেশে জন্য বড় অর্জন হবে,” বলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।