মেলবোর্ন ২৭ জুন
প্রথম ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে আবার ব্যর্থ তাদের টপ অর্ডার। উল্টোটা বলা যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রে। বোলিংয়ের সাফল্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটিংয়ে। তবে বোলাররাই আবার জিইয়ে তুলেছে দলের সম্ভাবনা।
লো-স্কোরিং ম্যাচটি দুই দিনেই তাই জমে উঠেছে বেশ। আপাতত এগিয়ে রাখা যায় ক্যারিবিয়ানদেরই। বারবাডোজ টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে ৮২ রানে। উইকেট বাকি ৬টি।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৮০ রানের জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস শেষ হয় ১৯০ রানে। অস্ট্রেলিয়া পরে ৩৩ ওভার খেলে বৃহস্পতিবার দিন শেষ করে ৪ উইকেটে ৯২ রান নিয়ে।
প্রথম দিনের মতো এ দিনও উইকেটে মুভমেন্ট ছিল অনেক। বাউন্স ছিল অসম। ব্যাটসম্যানদের জন্য ছিল কঠিন পরীক্ষা।
কেনসিংটন ওভালে ৪ উইকেটে ৫৭ রান নিয়ে দিন শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৩ রানে অপরাজিত থাকা ব্র্যান্ডন কিং বিদায় নেন আর ৩ রান যোগ করেই। জশ হেইজেলউডের বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হন অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ এরপর পায় ইনিংসের সেরা জুটি। টেস্ট নেতৃত্বে অভিষিক্ত রোস্টন চেইস ও সাড়ে তিন বছর পর টেস্টে ফেরা হোপ মিলে যোগ করেন ৬৭ রান।
দুই ব্যাটসম্যানই ফেরেন ফিফটির কাছে গিয়ে এবং দুটি আউট নিয়েই ছিল বিতর্কের অবকাশ। ৪৪ রান করা চেইসকে এলবিডব্লিউ দেন আম্পায়ার। ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক রিভিউ নেন সঙ্গে সঙ্গেই, যেটি দেখে মনে হতে পারে, বল লেগেছে তার ব্যাটে। আল্ট্রা এজ-এ বেশ কিছু রেখা দেখা যায় বটে, তবে পরিষ্কার বোঝা যায়নি। মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন টিভি আম্পায়ার।
৪৮ রান করা হোপ আউট হন কিপার অ্যালেক্স কেয়ারির দারুণ ক্যাচে। তবে এক হাতে নেওয়া ক্যাচটি মাটি স্পর্শ করেছিল কি না, সেই সংশয়ের অবকাশ ছিল যথেষ্টই।
এই দুজনের মাঝে বিদায় নেন অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রেভসও। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, অস্ট্রেলিয়াই হয়তো পাবে লিড। তবে ৯ নম্বরে নেমে ২০ বলে অপরাজিত ২৩ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে লিড এনে দেন আলজারি জোসেফ।
অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিংয়ে নামার পর শূন্য রানেই দুই দফায় জীবন পান স্যাম কনস্টাস। শামার জোসেফের বলে শুরুতে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ নিতে পারেনি জন ক্যাম্পবেল, একই ওভারে দ্বিতীয় স্লিপে ব্যর্থ হন গ্রেভস।
কোচ ড্যারেন স্যামির হতাশা স্পষ্ট ফুটে ওঠে টিভি পর্দায়। এই নিয়ে ম্যাচে ৬টি ক্যাচ ছাড়ল ক্যারিবিয়ানরা, শামারের বলেই ৫টি!
৫৩ মিনিট ক্রিজে নড়বড়ে সময় কাটিয়ে কনস্টাস শেষ পর্যন্ত বোল্ড হন শামারের বল স্টাম্পে টেনেই (৩৮ বলে ৫)। প্রথম ইনিংসে লড়াই করা উসমান খাওয়াজাকে এবার আগেই ১৫ রানে থামান আলজারি জোসেফ।
ক্যামেরন গ্রিন (৪৭ বলে ১৫) ও জশ ইংলিস (৩৩ বলে ১২) লড়াইয়ের চেষ্টা করে পারেননি লম্বা সময় টিকতে। ম্যাচের একমাত্র ফিফটি করা ট্রাভিস হেড এবারও টিকে আছেন অস্ট্রেলিয়ার আশা হয়ে। তার সঙ্গে জুটিতে ভালো শুরু করেছেন বাউ ওয়েবস্টার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১৮০
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৬৩.২ ওভারে ১৯০ (আগের দিন ৫৭/৪) (কিং ২৬, চেইস ৪৪, হোপ ৪৮, গ্রেভস ৪, আলজারি ২৩*, শামার ৮, সিলস ২; স্টার্ক ১৬-১-৬৫-৩, হেইজেলউড ১৮-৩-৪১-২, কামিন্স ১৮-৬-৩৪-২, লায়ন ৫.২-০-২৮-১, ওয়েবস্টার ৬-০-২০-২)।
অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: ৩৩ ওভারে ৯২/৪ (কনস্টাস ৫, খাওয়াজা ১৫, গ্রিন ১৫, ইংলিস ১২, হেড ১৩*, ওয়েবস্টার ১৯*; সিলস ১০-৩-২৪-১, শামার ১০-৪-১৫-১, আলজারি ৬-১-১৬-১, গ্রেভস ৭-১-২৭-১)।