ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মেলবোর্ন, ২৮ জুন— ভারতের সঙ্গে একটি ‘বিশাল ও চমৎকার’ বাণিজ্য চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজে রিপাবলিকান দলের ট্যাক্স ও ব্যয় হ্রাস আইন প্রচারের এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া।
অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “সবাই চায় একটি চুক্তি হোক এবং তারা যেন এর অংশ হতে পারে। কয়েক মাস আগেও সংবাদমাধ্যমগুলো বলছিল, ‘আপনার সঙ্গে কারো আগ্রহ আছে?’ কিন্তু সম্প্রতি আমরা চীনের সঙ্গে একটি বড় চুক্তি করেছি। ভারতের সঙ্গেও একটি বিশাল চুক্তি আসছে, সম্ভবত খুব শিগগিরই।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সবার সঙ্গে চুক্তি করবো না। কিছু দেশের ক্ষেত্রে আমরা শুধু একটি চিঠি পাঠাবো ‘ধন্যবাদ, আপনাকে ২৫, ৩৫ কিংবা ৪৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।’ এটাই সহজ উপায়। তবে আমার দলের সদস্যরা এই পথে যেতে চায় না। তারা কিছু ক্ষেত্রে সেটা চাইলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা আমার চেয়েও বেশি চুক্তি করতে চায়।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে সম্প্রতি চার দিনব্যাপী একটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় মূলত শিল্প ও কৃষিপণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার, শুল্ক হ্রাস এবং অ-শুল্ক প্রতিবন্ধকতা অপসারণের বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের কর্মকর্তারা এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্বে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব রাজেশ আগরওয়াল।
চুক্তির লক্ষ্য হচ্ছে ২০২৫ সালের মধ্যে এর প্রথম ধাপ সম্পন্ন করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫৯ লাখ কোটি টাকা। বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৯১ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা।
আলোচনার পর ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানান, “ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি নিয়ে আলোচনায় রয়েছে, যা উভয় দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা ও জনগণের জন্য উপকারী হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বৈঠকে বসেছিলেন এবং সে সময় তারা পারস্পরিক লাভজনক চুক্তিতে পৌঁছাতে সম্মত হন।”
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, “উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো এখন সম্ভব।”
ট্রাম্প আরও জানান, তিনি চীনের সঙ্গেও একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। যদিও তিনি বিস্তারিত প্রকাশ করেননি, তবে হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানান, এটি মূলত চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজ পদার্থ দ্রুত সরবরাহের বিষয়ে।
এই চুক্তির প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে এমন সময়ে, যখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে দুই দেশের বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল।
টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজেশ আগরওয়ালের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে পৌঁছেছে নতুন দফার আলোচনার জন্য।
বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুই দেশ আলোচনা করছে, যার লক্ষ্য ৯ জুলাইয়ের আগেই সেটি চূড়ান্ত করা। ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র যেসব উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছিল, তা ট্রাম্প প্রশাসন সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে ৯ জুলাই পর্যন্ত।
তবে ভারতের জন্য কৃষি ও দুগ্ধ খাত সবচেয়ে স্পর্শকাতর। ভারত এখন পর্যন্ত কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে দুগ্ধ খাত পুরোপুরি উন্মুক্ত করেনি।
২৬ জুন ট্রাম্প বলেছিলেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য ‘শূন্য শুল্কের’ প্রস্তাব দিয়েছে। তখন কর্মকর্তারা আশা করেছিলেন, ভারত হয়তো ৯ জুলাইয়ের মার্কিন শুল্ক নীতির আওতায় প্রথম চুক্তিবদ্ধ দেশ হতে পারে।
তবে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ২৬ শতাংশ প্রতিশোধমূলক শুল্ক প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টিল ও অটো পার্টসে বিদ্যমান শুল্কে ছাড় চায়।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতীয় তিনজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, এসব দাবিতে এখনো যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়নি। বরং মার্কিন পক্ষ চায়, ভারত কৃষিপণ্য (যেমন সয়াবিন, ভুট্টা), গাড়ি এবং মদসহ বেশ কিছু পণ্যের আমদানি শুল্ক কমাবে এবং অ-শুল্ক বাধাগুলো শিথিল করবে।