শুধু পরিবর্তন নয়, ‘অত্যাচারীদের হিসাব’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি মোদীর
মেলবোর্ন, ১৫ মার্চ- কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিটের ভাষণে…
মেলবোর্ন, ২৯ জুন—গাজার বাসিন্দাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ময়দার বস্তার ভেতরে অক্সিকোডন নামের মাদক পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে শনিবার এমন তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সাহায্য বিতরণ কেন্দ্রগুলো থেকে প্রাপ্ত ময়দার বস্তার ভেতরে ফিলিস্তিনিরা প্রেসক্রিপশন ভিত্তিক ব্যথানাশক ওষুধ অক্সিকোডন খুঁজে পেয়েছে। এটি সম্ভব যে, এই ট্যাবলেটগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ময়দার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি আক্রমণ।
অক্সিকোডন হলো একটি শক্তিশালী নেশা সৃষ্টিকারী ব্যথানাশক, যা সাধারণত মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার ব্যথা উপশমের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি আফিম থেকে তৈরি একটি সিন্থেটিক ওষুধ, যা মস্তিষ্কে ব্যথার অনুভূতি কমিয়ে দেয়। অস্ত্রোপচার পরবর্তী ব্যথা, ক্যান্সারজনিত ব্যথা বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসকরা এটি প্রেসক্রাইব করেন।
তবে এটি ব্যবহারে শরীরে সহনশীলতা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ সময় ব্যবহারে মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। এজন্য এটি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ওষুধ হিসেবে বিবেচিত। এটি অতিরিক্ত বা ভুলভাবে গ্রহণ করলে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
বেশিরভাগ দেশে অক্সিকোডন একটি নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত মাদক। প্রেসক্রিপশন ছাড়া বহন বা ব্যবহার বেআইনি এবং দণ্ডনীয়।
যদি গাজায় এটি সাহায্যের খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে মিশে থাকে, তবে এটি একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
গাজার গণমাধ্যম কার্যালয় এই ‘নিষ্ঠুর অপরাধের’ জন্য পুরোপুরি ইসরায়েলকে দায়ী করে বলেছে। তারা বলছে, এর লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনি সমাজে আসক্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং ভেতর থেকে সামাজিক কাঠামো ধ্বংস করা।
বিবৃতি বলা হয়, এটি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান ইসরায়েলি গণহত্যার অংশ। মাদক ব্যবহারের বিষয়টি নাগরিকদের বিরুদ্ধে একটি নোংরা যুদ্ধের অস্ত্র।
ইসরায়েল একটি পরিকল্পনা করেছে যাতে গাজার দক্ষিণ ও কেন্দ্রীয় অংশে চারটি সাহায্য বিতরণ কেন্দ্র স্থাপন করা যায়। ইসরায়েলি গণমাধ্যম অনুযায়ী, উত্তরের ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘ এই ইসরায়েলি ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছে। কারণ এটি জাতিসংঘের মাধ্যমে সাহায্য বিতরণের পথ এড়ানোর একটি বিকল্প উদ্যোগ।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৪৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং চার হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই সাহায্য কেন্দ্র ও জাতিসংঘের খাদ্য ট্রাকের কাছে ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছেন।
আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে ইসরায়েল অক্টোবর ২০২৩ থেকে গাজায় একটি নৃশংস অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ৫৬ হাজার ৩০০-জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজার যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
ইসরায়েল গাজায় তার যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখিও হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au