বিধ্বস্তের পর এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৭১; ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১২ জুলাই-
ভারতের গুজরাটের রাজধানী আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এর কাছে গত জুন মাসে ঘটে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৭১-এর বিধ্বংসী দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে দূর্ঘটনার কারন। বিমান উড্ডয়নের পর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটির দুটি ইঞ্জিনের জ্বালানি সরবরাহ আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যা সরাসরি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইন্ডিয়া এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) পেশ করা প্রাথমিক রিপোর্টে মূল কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে যে, আমেদাবাদ এয়ারপোর্ট থেকে টেকঅফের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই ১৭১-এর দুটি ইঞ্জিনই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
তদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিমানের ককপিটে পাইলটরা ঠিক কীভাবে এমন বিপদজনক ত্রুটির সম্মুখীন হলেন, তারই তদন্ত চলছে। ভয়েস রেকর্ডারে ধরা পড়েছে পাইলটদের মধ্যকার উত্তেজিত ও বিভ্রান্তিকর কথোপকথন, যেখানে এক পাইলট অন্যকে প্রশ্ন করেন, “তুমি কি ইঞ্জিনগুলো বন্ধ করে দিয়েছ?” এবং অন্য পাইলটের প্রতিউত্তর ছিল, “আমি করিনি।” মাত্র ০.১ সেকেন্ডের মধ্যে উভয় ইঞ্জিনে জ্বালানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়।
তদন্তের প্রাথমিক ফলাফলে বোয়িং ৭৮৭-৮ মডেলের বিমানটির ইঞ্জিন বা এর যন্ত্রাংশে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি পাওয়া যায়নি। তবে কেন এই সুইচগুলোর অবস্থান হঠাৎ পরিবর্তিত হলো, তা এখনো রহস্য। সম্ভাবনা রয়েছে, ককপিটে কোনো মানবশসৃষ্ট ভুল কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এই বিপর্যয়ের কারণ।
এই দুর্ঘটনার সময় বিমানে এমার্জেন্সি র্যাম এয়ারটুরবাইন (RAT) সক্রিয় ছিল, যা বিমানের বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু তাও বিমানকে আকাশে নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরিতে সময় লাগবে আরও কয়েক মাস।
এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট ১৭১-এর এই দুর্ঘটনা ভারতের বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের জন্য বড় আঘাত স্বরূপ। বিশ্বব্যাপী বিমান নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও এই ঘটনায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করেছে। ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ ঘটনা এড়াতে বিমান নিরাপত্তার নীতিমালা ও পাইলট প্রশিক্ষণের মান আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
তদন্তকর্মীরা এখন ককপিটের কৌশলগত সিদ্ধান্ত, পাইলটদের প্রতিক্রিয়া এবং যান্ত্রিক উপাদানের মধ্যে সম্ভাব্য অসঙ্গতিগুলো খতিয়ে দেখছেন। দুর্ঘটনার পুরো কারণ উদঘাটনে বিশেষজ্ঞরা তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন এবং আশা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিককালে একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশ পাবে যা ভবিষ্যতে বিমান দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সুত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান