প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি, ভারতে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ
মেলবোর্ন, ১৭ জুন- ভারতের জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রতারণার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশটিতে প্রথমবারের মতো জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ…
মেলবোর্ন, ১৬ জুন- বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গণতন্ত্র, সমতা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হলেও এলজিবিটিকিউআই ও জনগোষ্ঠীর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যৌন ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হামলা, হয়রানি ও সামাজিক বর্জনের ঘটনা বেড়েছে।
চলতি বছরের ৩ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগে আটজন হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার নারীকে ঘিরে ধরে হয়রানির অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজেদের ‘মোবাইল সাংবাদিক’ পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তাদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করেন, আপত্তিকর প্রশ্ন করেন এবং শারীরিকভাবে বাধা দেন। পরে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকদিন আটকে রাখার পর জরিমানা ও কিছু নথিতে স্বাক্ষর করিয়ে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
এর ঠিক এক সপ্তাহ পর, ১০ এপ্রিল শাহবাগেই আরেকটি সহিংস ঘটনার জন্ম হয়। ‘আজাদি আন্দোলন’ নামধারী একটি গোষ্ঠীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত কয়েকজনকে ‘সমকামী’ ও ‘ট্রান্সজেন্ডার’ আখ্যা দিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ নাগরিক আহত হন। ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের ৩৮৭ জন নাগরিক একটি যৌথ বিবৃতি দিয়ে হামলার নিন্দা জানান এবং জড়িতদের বিচারের দাবি তোলেন।
অধিকারকর্মীদের মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলজিবিটিকিউআই ও জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মী ও সংগঠকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে হুমকি দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বেশ কয়েকটি সংগঠন তাদের ওয়েবসাইট, ফেসবুক গ্রুপ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
এ সময় আলোচনায় আসে জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত কর্মী মুনতাসির রহমানের ঘটনাও। অভিযোগ রয়েছে, দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও তার যৌন পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পর তাকে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়।
মানবাধিকারকর্মীরা আরও দাবি করেন, যৌন ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে সরকারের সঙ্গে সংলাপের একাধিক চেষ্টা করা হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে এ জনগোষ্ঠীর বিষয়গুলো উপেক্ষিত থাকায় হতাশা বেড়েছে।
প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদের মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবার ও সহপাঠীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার ও হুমকির মুখে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তার মৃত্যু নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হলেও ঘটনায় কাউকে বিচারের আওতায় আনা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও তহবিল কমে যাওয়ায় বিভিন্ন মানবাধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পও সংকটে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত কয়েকটি কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে অনেক সংগঠন কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি হুমকির মুখে পড়েছে।
তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মীরা। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ট্রান্সজেন্ডার অধিকারকর্মী সাহারা চৌধুরী রেবিল রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এলজিবিটিকিউআই+ জনগোষ্ঠীর অধিকার ও বৈবাহিক স্বীকৃতির দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করেন। একই সময়ে তিনি একটি বিস্তৃত ‘বাংলাদেশি কুইয়ার ম্যানিফেস্টো’ প্রকাশ করেন, যা দেশে এ ধরনের প্রথম নীতিগত দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অধিকারকর্মীদের মতে, বাংলাদেশের যৌন ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠী বর্তমানে সামাজিক বৈষম্য, নিরাপত্তাহীনতা এবং আইনি সুরক্ষার ঘাটতির মধ্যে বসবাস করছে। তাদের দাবি, মানবাধিকার, নাগরিক নিরাপত্তা এবং আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে এই জনগোষ্ঠীর সংকট আরও গভীর হতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au