মেলবোর্ন, ১৬ জুন- অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্ব পরিবর্তনের জোরালো গুঞ্জন শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে। দলীয় অভ্যন্তরে চাপ ও অসন্তোষ থাকলেও প্রধানমন্ত্রী (প্রিমিয়ার) জাসিন্তা অ্যালান আপাতত নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দলের জনপ্রিয়তা তীব্রভাবে কমে যাওয়ায় আগামী নির্বাচনের আগে লেবার সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার লেবার পার্টির ককাস বৈঠকের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে দলের ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা চলছিল। দলীয় একাধিক সংসদ সদস্য মনে করছিলেন, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় রাজ্য নির্বাচনের আগে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনলে ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বার্তা যেতে পারে। এমনকি গত সপ্তাহ পর্যন্তও দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের একটি অংশ বিশ্বাস করছিলেন যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পক্ষে পর্যাপ্ত সমর্থন তৈরি হয়েছে।
তবে শেষ মুহূর্তে সেই উদ্যোগ ভেঙে পড়ে। ফলে জাসিন্তা অ্যালান আপাতত ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার হিসেবেই দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপ-প্রিমিয়ার বেন ক্যারলকে সম্ভাব্য বিকল্প নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু তিনি গত শুক্রবার এবং সোমবার দুবারই প্রকাশ্যে নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বেন ক্যারল বলেন, “আমার একটি ছোট মেয়ে রয়েছে। আমি চাই সে বড় হয়ে জানুক, আমি জাসিন্তা অ্যালানকে সমর্থন করেছি এবং তাকে সফল ও পুনর্নির্বাচিত প্রিমিয়ার হিসেবে দেখতে চেয়েছি।”
মঙ্গলবার ককাস বৈঠকের পরও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমি গত তিন বছর ধরে জাসিন্তা অ্যালানের বিশ্বস্ত উপ-প্রিমিয়ার হিসেবে কাজ করেছি এবং সেই অবস্থানেই আছি। নেতৃত্ব পরিবর্তনের গুঞ্জন আমার পক্ষ থেকে আসেনি।”
তবে নেতৃত্ব সংকট আপাতত এড়ানো গেলেও ভিক্টোরিয়া লেবার পার্টির জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে জনসমর্থনের দ্রুত পতন। আগামী নভেম্বরে টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও সাম্প্রতিক দুটি জরিপে দলটির অবস্থান তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত ডেমোসএইউ/প্রিমিয়ার ন্যাশনাল জরিপে দেখা যায়, মাত্র ২১ শতাংশ ভোটার লেবারকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সেখানে বিরোধী জোট কোয়ালিশন ৩০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে। একই জরিপে ওয়ান নেশন দলের সমর্থন দাঁড়িয়েছে ২৩ শতাংশে।
এছাড়া দুই দলভিত্তিক ভোট হিসাবেও কোয়ালিশন ৫৫-৪৫ শতাংশ ব্যবধানে লেবারের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে জরিপে উঠে এসেছে।
এর আগে প্রকাশিত ফ্রেশওয়াটার স্ট্র্যাটেজি জরিপেও লেবারের জনপ্রিয়তা ২৩ শতাংশে নেমে আসে। সেখানে ওয়ান নেশন ২৫ শতাংশ এবং কোয়ালিশন ২৭ শতাংশ সমর্থন পায়।
তবে হতাশাজনক জরিপ সত্ত্বেও বেন ক্যারল আশাবাদী। তিনি বলেন, “আমরা পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দিতে পারব। এখনো নির্বাচনের জন্য সময় রয়েছে।”
অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেতা জেস উইলসন লেবার সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার ভাষায়, সাম্প্রতিক নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েন প্রমাণ করে যে সরকার কার্যত বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে।
জেস উইলসন বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহে আমরা একটি বিশৃঙ্খল সরকার দেখেছি। তারা ভিক্টোরিয়ার জনগণের সমস্যা নিয়ে নয়, নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে ব্যস্ত। আমরা সেই বিশৃঙ্খলায় মনোযোগ দিচ্ছি না, বরং ভিক্টোরিয়াবাসীর জন্য আমাদের পরিকল্পনা ও সমাধান তুলে ধরছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা আপাতত থেমে গেলেও জনসমর্থনের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক মাসে ভিক্টোরিয়া লেবার পার্টির ভেতরে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে দলটি যদি জনমত জরিপে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে, তাহলে জাসিন্তা অ্যালানের নেতৃত্ব আবারও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।