পরিকল্পিতভাবে ‘তৃষ্ণার্ত যুদ্ধ’ চালিয়ে পানি সংগ্রহের লাইনে দাঁড়ানো মানুষদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ছবি: মিডল ইস্ট মনিটর
মেলবোর্ন, ১৫ জুলাই-
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন ভয়াবহ হামলায় নিহতের সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে। সর্বশেষ রোববার ১১২টি পানি সরবরাহ কেন্দ্রে একযোগে হামলা চালিয়ে অন্তত ৭০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনারা। এই হামলায় ধ্বংস হয়েছে ৭২০টি পানির কূপ, ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানিয়েছে, পরিকল্পিতভাবে ‘তৃষ্ণার্ত যুদ্ধ’ চালিয়ে পানি সংগ্রহের লাইনে দাঁড়ানো মানুষদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে সাড়ে ১২ লাখের বেশি মানুষ এখন বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলা জেনেভা কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধের শামিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ইসরায়েল প্রতি মাসে ১ কোটি ২০ লাখ লিটার জ্বালানি গাজায় প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। ফলে পানি কূপ, পয়ঃনিষ্কাশন কেন্দ্র, আবর্জনা সরানোর গাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলো অচল হয়ে পড়েছে। গত ৯ মার্চ দেইর এল-বালাহর পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেওয়ার পর পানির সংকট আরও তীব্র হয়ে যায়।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল যুদ্ধের শুরু থেকে গাজাবাসীকে হত্যা করতে নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে। খাবারের অভাবে কাতর মানুষদের সাহায্যের নামে কাছে টেনে হত্যা করা হচ্ছে। সর্বশেষ পানি সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে হামলার ঘটনা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৮ হাজার ২৬ জন, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫২০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায়ও শতাধিক বিমান হামলা হয়েছে, যেগুলোতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মরদেহ তোলা হচ্ছে এখনও।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে টানাপোড়েন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যে, এই সপ্তাহের মধ্যেই গাজায় ৬০ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। কাতারের রাজধানী দোহায় এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে। যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলি জিম্মি ও বন্দিদের মরদেহ বিনিময় নিয়েও কথা হচ্ছে।
তবে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের উপনেতা মুহাম্মদ আল-হিন্দি জানিয়েছেন, ইসরায়েল এখনও মূল শর্তগুলো মানতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যে কাঠামো চুক্তির কথা বলছি, তাতে তিনটি বিষয় আছে— আগ্রাসন বন্ধ, গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার ও নিরাপদভাবে ত্রাণ বিতরণ।’
গাজার জনগণের দুর্ভোগের শেষ নেই— অনাহারে মৃত্যুর পাশাপাশি এবার তৃষ্ণায় মারাত্মক মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি তারা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখের সামনে প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে এই লোমহর্ষক মানবিক ট্রাজেডির মাত্রা।
সুত্র: মিডল ইস্ট মনিটর