লিড নিউজ

গাজায় ১১২ পানি সরবরাহ কেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৭০০

  • 6:37 pm - July 15, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১২৮ বার
পরিকল্পিতভাবে ‘তৃষ্ণার্ত যুদ্ধ’ চালিয়ে পানি সংগ্রহের লাইনে দাঁড়ানো মানুষদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ছবি: মিডল ইস্ট মনিটর

মেলবোর্ন, ১৫ জুলাই-

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন ভয়াবহ হামলায় নিহতের সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে। সর্বশেষ রোববার ১১২টি পানি সরবরাহ কেন্দ্রে একযোগে হামলা চালিয়ে অন্তত ৭০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনারা। এই হামলায় ধ্বংস হয়েছে ৭২০টি পানির কূপ, ফলে বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানিয়েছে, পরিকল্পিতভাবে ‘তৃষ্ণার্ত যুদ্ধ’ চালিয়ে পানি সংগ্রহের লাইনে দাঁড়ানো মানুষদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে সাড়ে ১২ লাখের বেশি মানুষ এখন বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলা জেনেভা কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধের শামিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ইসরায়েল প্রতি মাসে ১ কোটি ২০ লাখ লিটার জ্বালানি গাজায় প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। ফলে পানি কূপ, পয়ঃনিষ্কাশন কেন্দ্র, আবর্জনা সরানোর গাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলো অচল হয়ে পড়েছে। গত ৯ মার্চ দেইর এল-বালাহর পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেওয়ার পর পানির সংকট আরও তীব্র হয়ে যায়।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল যুদ্ধের শুরু থেকে গাজাবাসীকে হত্যা করতে নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে। খাবারের অভাবে কাতর মানুষদের সাহায্যের নামে কাছে টেনে হত্যা করা হচ্ছে। সর্বশেষ পানি সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে হামলার ঘটনা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৮ হাজার ২৬ জন, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫২০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায়ও শতাধিক বিমান হামলা হয়েছে, যেগুলোতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মরদেহ তোলা হচ্ছে এখনও।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে টানাপোড়েন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যে, এই সপ্তাহের মধ্যেই গাজায় ৬০ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। কাতারের রাজধানী দোহায় এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে। যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলি জিম্মি ও বন্দিদের মরদেহ বিনিময় নিয়েও কথা হচ্ছে।

তবে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের উপনেতা মুহাম্মদ আল-হিন্দি জানিয়েছেন, ইসরায়েল এখনও মূল শর্তগুলো মানতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যে কাঠামো চুক্তির কথা বলছি, তাতে তিনটি বিষয় আছে— আগ্রাসন বন্ধ, গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার ও নিরাপদভাবে ত্রাণ বিতরণ।’

গাজার জনগণের দুর্ভোগের শেষ নেই— অনাহারে মৃত্যুর পাশাপাশি এবার তৃষ্ণায় মারাত্মক মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি তারা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চোখের সামনে প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে এই লোমহর্ষক মানবিক ট্রাজেডির মাত্রা।

সুত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

এই শাখার আরও খবর

বিজয়া দশমীতে সিঁদুরের রঙে আনন্দ, দেবী বিদায়ে বিষাদ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  ছয় দিনের পূজা-অর্চনা শেষে বিদায়ের পালা দেবী দুর্গার। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শেষ অর্ঘ্য নিবেদন, দর্পণ বিসর্জন ও ঘট বিসর্জনের মধ্য…

‘পাপের লাশ দেশে আসুক চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন বিএনপির এমপি

সৌদি আরবে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিরোধিতা করে ‘পাপের লাশ দেশে আসুক চাই না’ মন্তব্য করেছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের…

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কি ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে?

সামরিক কৌশল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে একসঙ্গে চাপে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত, আঞ্চলিক মিত্রদের…

মাগুরায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ

মাগুরা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাকের হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার…

ভক্তি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মহিমায় সিডনিতে দর্পণের শারদীয় দুর্গোৎসব

শতদল তালুকদার, সিডনি- শরতের স্নিগ্ধ আবহ, দেবীবন্দনার পবিত্র অনুরণন আর বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের আবাহনে সিডনিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। দর্পণ কালচারাল অ্যান্ড রিলিজিয়াস…

কুমিল্লাজুড়ে মাদকের ভয়াবহ থাবা, ২০০ হটস্পটে চলে বেচাকেনা

কুমিল্লার সীমান্ত দিয়ে দেদারছে ঢুকছে মাদক। পরে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। জেলার ১৮টি থানায় অন্তত ২০০টি হটস্পটে চলছে মাদক কেনাবেচা। সীমান্তের অর্ধশতাধিক পথ ব্যবহৃত…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au