যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপের দেশগুলো সরিয়ে নিচ্ছে সোনার মজুদ
চলতি সপ্তাহে উত্তর আমেরিকা থেকে ৮৬ টন সোনা সরিয়ে লন্ডনের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে স্থানান্তর করেছে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে গুরুতর কোনো সংকট…
ঢাকা, ১৫ জুলাই-
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পূর্ণভাবে বাতিল করতে খুব শিগগিরই আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। ড. বদিউল আলম বলেন, আদালতের দেওয়া রায়ে তারা সন্তুষ্ট হলেও কিছু বিষয়ে অসঙ্গতি রয়ে গেছে, তাই আপিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে দেশের মানুষের মতামত উপেক্ষা করে এই সংশোধনী পাস করা হয়েছিল। এমনকি যেই কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তাদের প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়নি।
মামলার আইনজীবী ড. শরীফ ভূইয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সংবিধান সংশোধনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রক্রিয়া ছিল অস্বচ্ছ। আদালতের রায়ে সেই বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়নি। তিনি মনে করেন, ত্রয়োদশ সংশোধনীর রিভিউ করে যদি পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল করা যায়, তাহলে এটি হবে একটি পূর্ণাঙ্গ রায়।
ড. শরীফ ভূইয়া আরও বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনীর রিভিউ পক্ষে গেলে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুরোপুরি বহাল হবে।
২০১১ সালে বাংলাদেশের সংবিধানে পাস হওয়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা। এই সংশোধনীর মাধ্যমে বলা হয়, যে কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচন এখন সরাসরি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হয়েছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ প্রশাসনের মাধ্যমে ভোটের সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করা।
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকারই নয়, আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। সংবিধানের প্রস্তাবনাতে ‘জাতীয়তাবাদ’, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’, ‘গণতন্ত্র’ এবং ‘সমাজতন্ত্র’কে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে পুনঃস্থাপন করা হয়। আবার ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ বাক্যটিও সংবিধানে রেখে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামের অবস্থান বহাল থাকে, যা দ্বন্দ্ব তৈরি করে।
বিতর্কের মূল বিষয় হয়ে ওঠে যে, এই সংশোধনী সংসদে পাসের সময় বিরোধীদলসহ বড় অংশের রাজনৈতিক শক্তি কোনো ধরনের মতামত প্রকাশের সুযোগ পায়নি। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে সরকারের অধীনে রাখায় নিরপেক্ষ নির্বাচনের সুযোগ কমে যাবে বলে সমালোচনা হয়। এর ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভাজন আরও গভীর হয়, যা দেশের নির্বাচনব্যবস্থায় আস্থার সংকট তৈরি করে।
কোনো জনমত গ্রহণ ছাড়াই, একতরফাভাবে ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এ সংশোধনী পাস হওয়ায় এটিকে ‘অস্বচ্ছ’ প্রক্রিয়া বলা হয়। সমালোচকদের মতে, এটি সরকারের ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদি ও শক্তিশালী করার একটি উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হয়। ফলে এই সংশোধনী এখনও দেশের রাজনৈতিক বিতর্ক ও আদালতের মামলায় অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে আছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au