ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর(বামে) কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী(ডানে)
মেলবোর্ন, ১৬ জুলাই-
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বিরুদ্ধে দেশটির পররাষ্ট্রনীতি ধ্বংসের অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, ‘কংগ্রেস আশা করে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে চীন নিয়ে আলোচনায় ‘অবশেষে সম্মত’ হবেন।’’
১৯৬২ সালে চীনা আক্রমণের সময় সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় সংসদ যদি বিতর্ক করতে পারে, তাহলে এখন কেন নয়-এমন মন্তব্য ছোঁড়ে দিয়ে রাহুল বলেন, ‘ভারতের বিদেশনীতি ধ্বংস করার লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সার্কাস চলছে।’
ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নয়ন সম্পর্কে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের অবহিত করা সংক্রান্ত গণমধ্যমের একটি প্রতিবেদন ট্যাগ করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তাকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘আমার ধারণা, চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসে মোদীকে চীন-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নয়ন সম্পর্কে অবহিত করবেন। বিদেশমন্ত্রী এখন ভারতের বিদেশনীতি ধ্বংস করার লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সার্কাস চালাচ্ছেন।’
উল্লেখ্য, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা বা এসসিও সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য চীনে অবস্থানরত জয়শঙ্কর মঙ্গলবার চীনা রাষ্ট্রপতি শি’র সঙ্গেও দেখা করেন।
চীন সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনায় সরব কংগ্রেসের অন্য নেতারাও। দলটির সাধারণ সম্পাদক ইনচার্জ কমিউনিকেশন জয়রাম রমেশ বলেছেন, ‘১৪ জুলাই চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং-এর সাথে তার বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেছিলেন যে, ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গত অক্টোবরে কাজানে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও রাষ্ট্রপতি শি-এর মধ্যে বৈঠকের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি হচ্ছে ও আমাদের এই সম্পর্কের ক্রমাগত স্বাভাবিকীকরণ পারস্পরিকভাবে উপকারী ফলাফল আনতে পারে।’
‘সম্ভবত আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি শি-এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শেষ আলাপ-আলোচনার পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নয়নের কথা মনে করিয়ে দেওয়া উচিত। চীন অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানকে সম্পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল। এটিকে নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ ও জে-১০সি ফাইটার এবং পিএল-১৫ই এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল, বিভিন্ন ধরণের ড্রোনের মতো অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসাবে পরিণত করেছিল’- বিবৃতিতে বলেন জয়রাম রমেশ।
‘‘অপারেশন সিঁদুরের সময়ে ভারত তিনটি প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই করেছে, যার মধ্যে রয়েছে চীন যা পাকিস্তানকে ‘লাইভ ইনপুট’ অর্থাৎ ভারতীয় সামরিক অভিযানের রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে’’ সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিংয়ের এমন বক্তব্য স্মরণ করিয়ে রমেশ বলেন, ‘নিকট ভবিষ্যতে পাকিস্তান চীনা জে-৩৫ স্টিলথ ফাইটার কিনতে পারে।’
চীন ভারতে অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য বিরল চুম্বক, বিশেষ সার ও টানেল-বোরিং মেশিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ রপ্তানি সীমিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘টেলিকম, ওষুধ ও ইলেকট্রনিক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি চীনা আমদানির উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল, যদিও চীনের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি রেকর্ড ৯৯.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।’
রমেশ বলেন, ‘ভারতের ফক্সকন থেকে শত শত চীনা কর্মী চলে গেছেন, যা ভারতের অ্যাপল স্মার্ট ফোনের বিকল্প বৈশ্বিক সরবরাহকারী হওয়ার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।বিদেশমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী মোদী কখন ভারতের জনগণকে আস্থায় নেবেন এবং সংসদে চীন সম্পর্কে বিস্তারিত বিতর্ক করবেন-যেমনটি কংগ্রেস ২০২০ সাল থেকে আহ্বান জানিয়ে আসছে।’
‘কংগ্রেস আশা করে যে, প্রধানমন্ত্রী অবশেষে সংসদের আসন্ন বর্ষা অধিবেশনে এই ধরনের আলোচনায় রাজি হয়ে বিগত পাঁচ বছরের অপূর্ণতা দূর করবেন। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় উৎপাদন শক্তি হিসেবে চীনের উত্থান ও দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে চীনের অবস্থান-যা এক দশকের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তার ফলে উদ্ভূত গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলির বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করা অপরিহার্য’-বলেন কংগ্রেস নেতা রমেশ।
অন্যদিকে, এক সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেস মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনাতে বলেন, ‘২৮ জন শহীদ পরিবার এখনও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে ও প্রশ্নটি রয়ে গেছে যে সন্ত্রাসীদের কখন বিচারের আওতায় আনা হবে? কীভাবে তারা আমাদের ভূখণ্ডে ২০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল এবং কোনও চিহ্ন ছাড়াই নিখোঁজ হয়েছিল?’
শ্রীনাতে শাসক দল বিজেপিকে আক্রমণ করে আরও অভিযোগ করেন, ‘গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া জ্যোতি মালহোত্রা পাকিস্তানে প্রবেশের সময় হরিয়ানার বিজেপির সদস্য বলে দাবি করেছিলেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি পাকিস্তান হাই কমিশনে তার হ্যান্ডলার দানিশের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন; যিনি তার পাকিস্তান ভ্রমণে সহায়তা করেছিলেন।’
‘ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে বিজেপির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়’-বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শ্রীনাতে আরও বলেন, ‘প্রশ্নগুলি রয়ে গেছে যে, জ্যোতি মালহোত্রার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? তিনি কী তথ্য প্রকাশ করেছেন? সন্ত্রাসীদের ধরার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?’
সুত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ