প্রয়োজন হলে ইউক্রেনের আরও এলাকা দখল করবেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন পুতিন; ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১৬ জুলাই-
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি বা পশ্চিমা বিশ্বের চাপ সত্ত্বেও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থামানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই। উল্টো প্রয়োজন হলে ইউক্রেনের আরও এলাকা দখল করবেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
পুতিনের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, তিনি বিশ্বাস করেন রাশিয়ার অর্থনীতি ও সামরিক শক্তি এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে যথেষ্ট সক্ষম। পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা এবং চাপ তাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। এমনকি তিনি মনে করেন, দীর্ঘ মেয়াদেও রাশিয়ার এই কৌশল টিকিয়ে রাখা সম্ভব।
ইতিমধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের কাছ থেকে নতুন করে প্রায় এক হাজার চারশো পনেরো বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে। এটি মূলত ‘ধাপে ধাপে অগ্রগতি’ বা ‘ক্রিপিং গেইন’ কৌশলের অংশ, যার মাধ্যমে রাশিয়া সামান্য একটু করে নতুন এলাকা দখল করে ইউক্রেনকে আরও কোণঠাসা করছে।
পুতিন জানিয়েছেন, তিনি শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি আছেন, তবে তার নিজের শর্তে। এই শর্তগুলো হলো—ন্যাটো যাতে আর ইউক্রেনে সম্প্রসারণ না করে, ইউক্রেনকে নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে, রুশ ভাষাভাষী জনগণের অধিকার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং ইউক্রেনের যেসব অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে আছে সেগুলোকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে মেনে নিতে হবে। পশ্চিমা দেশগুলো এই শর্তগুলোকে অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে, কারণ এতে ইউক্রেনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা নষ্ট হবে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী পঞ্চাশ দিনের মধ্যে যদি কোনো শান্তি চুক্তি না হয়, তাহলে ২০০ শতাংশ শুল্কসহ রাশিয়ার অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে নতুন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে, যেটি ভারতের মতো দেশগুলোর সাথেও বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এর পাশাপাশি ইউক্রেনকে নতুন করে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প, যাতে ইউক্রেন রাশিয়ার অগ্রগতি ঠেকাতে পারে।

রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনের ভুখন্ড; ছবিঃ রয়টার্স
তবে পুতিন মনে করেন, ট্রাম্পের এই হুমকি তার কৌশলে কোনো পরিবর্তন আনবে না। তার মতে, রাশিয়া তাদের নিজস্ব শর্তেই শান্তির ব্যাপারে আলোচনা করতে আগ্রহী এবং পশ্চিমা বিশ্বের চাপ এতে কোনো কাজে আসবে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে রাশিয়া ছোট ছোট এলাকা দখল করে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইছে, অন্যদিকে ট্রাম্প দ্রুত চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ করতে চাইলেও বাস্তবে তা সহজ নয়। কারণ পুতিন তার অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেননি। ফলে যুদ্ধের অবসান খুব শিগগিরই হবে বলে মনে করছেন না কেউ।
এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ থামানোর সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। আর রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তাও অব্যাহত রয়েছে।
সুত্রঃ রয়টার্স