হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে সিরিয়ার সামরিক সদর দপ্তর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের পার্শ্ববর্তী এলাকা।ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১৭ জুলাই-
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক ও দক্ষিণাঞ্চলীয় সুয়েইদা প্রদেশে আজ বুধবার ভোরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে সিরিয়ার সামরিক সদর দপ্তর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের পার্শ্ববর্তী এলাকা। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিরিয়ার স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, দ্রুজ জনগণের বিরুদ্ধে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর অভিযান পর্যবেক্ষণ করার পরই রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল সিরিয়ার সামরিক স্থাপনা ও ‘সরকারি নিপীড়ন যন্ত্র’। এক্সে প্রকাশিত আইডিএফ-এর বিবৃতিতে বলা হয়, যেকোনো পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে।
এই হামলা এমন সময় হলো, যখন সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় সুয়েইদা প্রদেশে ড্রুজ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরকারি দমন-পীড়নের অভিযোগ বাড়ছিল। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান, গণগ্রেফতার ও সহিংসতা চালানোর খবর আসছিল দেশজুড়ে। সম্প্রতি সিরিয়া সেখানে একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। ইসরায়েল বলছে, ড্রুজ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা হস্তক্ষেপ করেছে।
দামেস্কে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের আশপাশে বিস্ফোরণের ফুটেজ সিরিয়ার স্থানীয় টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। উমাইয়াদ স্কয়ার এলাকায় আকাশ ছোঁয়া ধোঁয়া ও আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে। হামলার সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সামরিক সদর দপ্তরসহ আবাসিক এলাকাগুলোও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়।
তবে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, বেশিরভাগ ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। যদিও কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত লেগেছে এবং সেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সরকারপন্থী বার্তা সংস্থা সানা বলছে, বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
তুরস্ক এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের পর যখন সিরিয়া পুনর্গঠনের চেষ্টায় রয়েছে, তখন ইসরায়েল ওই প্রচেষ্টা নস্যাৎ করতে চায়। তুরস্ক আরও বলেছে, এখন সময় সিরিয়ার জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে পুনরায় গঠন করার ও আন্তর্জাতিক পরিসরে একীভূত করার, সেখানে ইসরায়েলের এই ধরনের আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এদিকে, আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর ইসলামপন্থী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে। এইচটিএস প্রধান আহমেদ আল-শারার বর্তমানে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট। নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। মে মাসে সৌদি আরবে শারার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকও হয়।
উল্লেখ্য, বাশারের পতনের পর থেকে ইসরায়েল সিরিয়ায় অন্তত ৬০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে দেশটির সামরিক অবকাঠামো প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। গোলান মালভূমির জাতিসংঘ-নিয়ন্ত্রিত বাফার জোনে সেনা মোতায়েন করে ইসরায়েল এখন আরও গভীরে অভিযান পরিচালনা করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপ শুধু সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যেই উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে। বিশেষ করে ড্রুজ জনগণের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন সিরিয়া-ইসরায়েল সম্পর্ককে এক নতুন দ্বন্দ্বের পথে ঠেলে দিতে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স ও বিবিসি