অর্থনৈতিক যুদ্ধ মোকাবিলায় টাস্কফোর্স গঠন করল ইরান
চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ টাস্কফোর্স গঠন করেছে ইরান। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে যুদ্ধের প্রভাব দ্রুত শনাক্ত করে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ…
মেলবোর্ন, ১৭ জুলাই-
পাকিস্তানে ভারী বর্ষণের কারণে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশে টানা বৃষ্টিতে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬৩ জন, আহত হয়েছেন আরও ২৯০ জনের বেশি মানুষ। বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির পরই এই প্রাণঘাতী দুর্যোগ শুরু হয়।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অধিকাংশ মানুষ ভবন ধসে চাপা পড়ে মারা গেছেন। কেউ কেউ ডুবে গেছেন, আবার কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
রাজধানী ইসলামাবাদের পাশের শহর রাওয়ালপিন্ডিতে আজ বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে সবাই ঘরে অবস্থান করে নিরাপদ থাকে। শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীটি বিপজ্জনকভাবে ফুলেফেঁপে ওঠায় আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
চলতি বছরের মৌসুমি বৃষ্টির শুরু জুনের শেষদিক থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১৮০ জনের, যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি শিশু। পাঞ্জাবে একাধিক এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে, এক্সপ্রেসওয়ে বন্ধ হয়ে পড়েছে, বাতিল হয়েছে বহু ফ্লাইট।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি সব সংস্থা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি জনগণকে সতর্কতা ও নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
চাকওয়াল শহরে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছে নৌবাহিনী ও উদ্ধারকারী দল। সামরিক হেলিকপ্টারগুলো বন্যাকবলিত এলাকার ওপর চক্কর দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করছে।
পাঞ্জাব প্রশাসন সতর্ক করেছে, সাপ্তাহিক ছুটির সময়জুড়ে আরও বৃষ্টিপাত ও হঠাৎ বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা পাকিস্তানে এমন বন্যা নতুন নয়। দেশটি দুটি বড় আবহাওয়া প্রবাহের মাঝখানে অবস্থিত—একটি প্রবাহ প্রচণ্ড খরা সৃষ্টি করে, অন্যটি বয়ে আনে মৌসুমি বর্ষণ। এ ছাড়া দেশটিতে রয়েছে ১৩ হাজারের বেশি হিমবাহ, যেগুলো দ্রুত গলে যাচ্ছে, ফলে বন্যার আশঙ্কা বাড়ছে।
২০২২ সালে ভয়াবহ বন্যায় পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা ডুবে গিয়েছিল। প্রাণ হারায় প্রায় ১,৭০০ মানুষ, আর ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়ে গিয়েছিল ৩০ বিলিয়ন ডলার। এর পরের বছর, ২০২৩ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব পাকিস্তানের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়ে বলেন, জলবায়ু সংকটে দেশটি একদিকে যেমন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত, তেমনি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নৈতিক ঋণেরও শিকার।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au