ইতোমধ্যে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের স্থানীয় সরকার এবং আঞ্চলিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে ১৬ বছর বয়সীরা ভোট দিতে পারে। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই-
যুক্তরাজ্য সরকার আগামী সাধারণ নির্বাচনে ভোটদানের বয়সসীমা কমিয়ে ১৬ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। নতুন একটি নির্বাচন বিল অনুযায়ী, ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীরা ভোট দিতে পারবে—এমন বিধান যোগ করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এটি হবে ১৯৬৯ সালের পর দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। ওই বছরই প্রথম ভোটদানের বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ করা হয়েছিল।
নতুন বিলে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাজ্যে ইস্যু করা ব্যাংক কার্ডকে বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গণ্য করা, স্বয়ংক্রিয় ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চালু করা এবং রাজনৈতিক অনুদান গ্রহণে বিদেশি হস্তক্ষেপ ঠেকাতে কঠোর নিয়ম চালু করা।
উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের স্থানীয় সরকার এবং আঞ্চলিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে ১৬ বছর বয়সীরা ভোট দিতে পারে। কিন্তু ইংল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে এখনো বয়সসীমা ১৮-ই রয়ে গেছে।
নির্বাচনী সংস্কারবিষয়ক মন্ত্রী আলী জানিয়েছেন, এই সংস্কার সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে এবং আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগেই তা বাস্তবায়নের ইচ্ছা রয়েছে। যদিও পরবর্তী নির্বাচন ২০২৯ সালের মধ্যে হওয়ার কথা, তবুও তার আগেই তা হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
আলী বলেন, “১৬ বছর বয়সী একজন তরুণ কাজ করতে পারে, কর দেয়, সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারে। তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তার মত দেওয়ার অধিকার থাকবে না কেন?” তিনি একে ‘একটি আমূল পরিবর্তন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও দেখা দিয়েছে। কনজারভেটিভ দলের ছায়ামন্ত্রী পল হোমস এই পরিকল্পনাকে ‘চরম বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। হাউস অব কমন্সে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যে তরুণ লটারি টিকিট কিনতে পারে না, মদ্যপান বা বিয়ে করতে পারে না, যুদ্ধেও যেতে পারে না, এমনকি প্রার্থীও হতে পারে না—সে কিভাবে ভোট দিতে পারবে?”
ভোটাধিকার সম্প্রসারণ নিয়ে যুক্তরাজ্যে এক নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন হলে দেশটির নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সুত্রঃ রয়টার্স