ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কো। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই-
রাশিয়ার আগ্রাসনের তৃতীয় বর্ষে এসে ইউক্রেন সরকারের কাঠামোয় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনলেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কো। তিনি পদত্যাগকারী প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শ্যামিহালের স্থলাভিষিক্ত হলেন। শ্যামিহাল ২০২০ সাল থেকে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ইউক্রেনের পার্লামেন্টের অনুমোদনের পর সিভিরিদেঙ্কো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল সেই সময়েই। চলতি বছর ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
নতুন দায়িত্ব নিয়ে সিভিরিদেঙ্কো সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেবেন। তাঁর ভাষায়, “আমাদের লক্ষ্য, এমন একটি ইউক্রেন গড়া যা নিজস্ব সামরিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে। আমাদের দ্রুত ও ফলপ্রসূ কাজ করতে হবে, কারণ যুদ্ধ আমাদের কোনো বিলম্বের সুযোগ দেয় না।”
প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে যাওয়া ডেনিস শ্যামিহাল এখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। এই মন্ত্রণালয় সম্প্রতি একাধিক দুর্নীতির অভিযোগের মুখে পড়েছে, যার প্রেক্ষাপটে সেখানে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।
এছাড়া, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রিয়ি সিবিহা তাঁর পদে বহাল থাকছেন। তবে আইনমন্ত্রী ওলহা স্তেফানিশিনাকে যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে থাকা ওক্সানা মার্কারোভা বিদায় নিচ্ছেন। জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন কারণ তিনি বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন।
এছাড়া, আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পরিবর্তন হয়েছে। ওলেক্সি সোবোলেভ অর্থনীতি, পরিবেশ ও কৃষি বিষয়ক মন্ত্রী এবং তারাস কাচকা ইউরোপীয় সংযুক্তিকরণ বিষয়ক উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
তবে এই রদবদলকে কেন্দ্র করে সমালোচকরাও সরব হয়েছেন। তাদের মতে, মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ এলেও অনেক পুরনো সদস্যকেই রাখা হয়েছে এবং জেলেনস্কি নিজের ঘনিষ্ঠ অনুগতদের পদে বসিয়ে সরকারে নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো করছেন।
এই পরিবর্তন ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন সরকারের গতি ও স্থিতিশীলতা কতটা প্রভাবিত করবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে জেলেনস্কির এই রদবদল তাঁর রাজনৈতিক কৌশলের নতুন ধারা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুত্রঃ রয়টার্স