থমাস ত্রিকাসিহ লেমবং; ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৯ জুলাই-
ইন্দোনেশিয়ার সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী থমাস ত্রিকাসিহ লেমবংকে সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। শুক্রবার দেওয়া এই রায়ে বলা হয়েছে, তিনি অবৈধভাবে চিনি আমদানির অনুমতি দিয়ে সরকারের প্রায় ৩ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের ক্ষতি করেছেন।
থমাস লেমবং ২০১৫ ও ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর মন্ত্রিসভায় বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। একসময় জোকোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত হলেও ক্ষমতা ছাড়ার পর তিনি সরকারের কঠোর সমালোচক হয়ে ওঠেন।
আদালতে লেমবং দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে করা মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ, সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি বিরোধী প্রার্থী আনিস বাসওয়েদানের প্রচারণা পরিচালনা করেন। সে নির্বাচনে আনিস পরাজিত হন এবং জোকোর সমর্থিত প্রার্থী প্রাবোও সুবিয়ান্তো জয়ী হন। প্রাবোও দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পরই লেমবংকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে সরকারি কৌঁসুলিরা বলেন, এই মামলা রাজনৈতিক নয়, বরং দুর্নীতির শক্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪ লাখ টনের বেশি চিনি উৎপাদিত হলেও সে সময় দেশটির চিনি ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ২১ লাখ টনের মতো। এর মাঝেই লেমবং অনিয়ম করে আমদানির অনুমতি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
২০১৫-১৬ সালে ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারে চিনির দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার কিছু সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমতি দেয়। সে সময় লেমবং ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। অভিযোগ হলো, তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠীকে চিনি আমদানির অনুমতি দেন, যেখানে ঘাটতির প্রকৃত হিসাব ও দেশের চিনি মজুদের বাস্তবতা উপেক্ষা করা হয়। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারায় এবং স্থানীয় চিনিকলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরবর্তীতে যখন ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লেমবং ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং বিরোধী প্রার্থী আনিস বাসওয়েদানের প্রচারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন, তখন রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়ে যায়। নির্বাচনে আনিস হেরে গেলে এবং ক্ষমতাসীন প্রাবোও সুবিয়ান্তো জেতার পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করেন যে লেমবং হতে পারেন রাজনৈতিক প্রতিশোধের লক্ষ্য।
তাঁর গ্রেপ্তার ও বিচারের পর লেমবং অভিযোগ তোলেন যে, তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে। তবে প্রসিকিউশন পক্ষ বলছে, মামলাটি রাজনৈতিক নয়; বরং দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথার্থ প্রমাণের ভিত্তিতে করা হয়েছে।
সুত্রঃ রয়টার্স