বিদ্রোহের ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত হওয়া সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বর্তমানে সিউলের একটি কারাগারে আছেন। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১৯ জুলাই-
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়লের বিরুদ্ধে মার্শাল ল’ জারির ষড়যন্ত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আবারও মামলা হয়েছে।
গত এপ্রিল মাসে তিনি ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল। শুক্রবার দেশটির একটি আদালত তার বিরুদ্ধে সরকারি নথি গোপন ও মুছে ফেলার নির্দেশ, বেআইনি আদেশ কার্যকর করানো এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনে।
২০২৩ সালের শেষ দিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তিনি ও তার ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মার্শাল ল’ জারির পরিকল্পনা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে বিদ্রোহের ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত হওয়া সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বর্তমানে সিউলের একটি কারাগারে আছেন। আদালত তার জামিন আবেদন খারিজ করেছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ইয়ুন তদন্তে বাধা দিতে পারেন বা তথ্য নষ্ট করতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।
তদন্ত আরও বিস্তৃত হচ্ছে, এবং এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ইয়ুনের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়ল একজন আইনজীবী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে কাজ করেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার মাধ্যমে তিনি জাতীয়ভাবে পরিচিতি লাভ করেন, বিশেষ করে সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট পার্ক গুন-হে ও লি মিউং-বাকের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনার কারণে।
তিনি রাজনীতিতে নতুন মুখ হিসেবে ২০২১ সালে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হয়ে ২০২২ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন। ইয়ুন একজন কঠোর জাতীয়তাবাদী হিসেবে পরিচিত, যিনি উত্তর কোরিয়ার হুমকির মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করেছেন।
তবে তার শাসনামলে রাজনৈতিক বিভাজন, বিরোধী দলের সঙ্গে টানাপড়েন এবং বিভিন্ন নীতিগত বিতর্কের কারণে তিনি সমালোচিতও হয়েছেন। তার প্রশাসন দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংস্কারে জোর দিলেও নানা ইস্যুতে সমালোচনার মুখে পড়েছে।
সুত্রঃ রয়টার্স