‘ওয়ান্ডার সি’ নামের মোটরচালিত এই নৌকাটিতে ৪৮ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রু ছিলেন। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২০ জুলাই-
ভিয়েতনামের বিখ্যাত পর্যটন এলাকা হালং বে-তে পর্যটকবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকজন। হ্যানয় থেকে আগত যাত্রীদের বহনকারী এই নৌকাটি শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
‘ওয়ান্ডার সি’ নামের মোটরচালিত এই নৌকাটিতে ৪৮ জন যাত্রী ও ৫ জন ক্রু ছিলেন। হালং বে-র দাউ গোঁ গুহা এলাকায় প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির মধ্যে নৌকাটি উল্টে যায়। এরপরই শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। ভিয়েতনামের পুলিশ, নৌবাহিনী, উদ্ধারকারী দল এবং ডুবুরিদের সমন্বয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ১০ বছর বয়সী শিশু চার ঘণ্টা নৌকার ভেতরে একটি বাতাসপূর্ণ কক্ষে আটকা পড়ে ছিল, পরে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। আরেক কিশোর দুই ঘণ্টারও বেশি সময় পানির নিচে আটকে থাকার পরও অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়।
ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা ও নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ দুর্ঘটনার জন্য হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন, প্রবল ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতকে দায়ী করা হয়েছে। ঘটনার সময় উত্তাল ছিল সাগর। দেশটির উত্তর উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছিল টাইফুন উইফা নামের এক শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, যার প্রভাবেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হালং বে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল এবং ভিয়েতনামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। এখানে বছরে লাখ লাখ পর্যটক ঘুরতে আসেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা পর্যটন নিরাপত্তা এবং দুর্যোগকালীন পূর্বসতর্কতার গুরুত্বকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।
ভিয়েতনাম সরকার জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নৌ-নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
ছবিঃ রয়টার্স