ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন ২৩ জুলাই-
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় এখনো চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দুর্ঘটনার তিন দিন পরও নিহত, আহত ও নিখোঁজদের নির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায়, নিহতদের নাম-ঠিকানাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুতের উদ্যোগ নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা পুরো বিষয়টি যাচাই করে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করবে।
এদিকে, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এর মর্গে এখনো অশনাক্ত অবস্থায় ছয়টি মৃতদেহ রয়েছে। এ মৃতদেহগুলো শনাক্ত করতে নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে করে পরিচয় নিশ্চিত করে মরদেহ হস্তান্তর সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে সরকারি দুটি দপ্তরের পরিসংখ্যানে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ২৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। অথচ, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) মঙ্গলবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩১ বলে জানিয়েছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, তারা প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনাকে যাচাই-বাছাই করে, নাম ও পরিচয়সহ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছেন। এজন্য তারা মনে করেন, তাদের তথ্যে ভুলের সম্ভাবনা খুবই কম।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর থেকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকায় কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মূল গেট তালাবদ্ধ রয়েছে, বাইরে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। বুধবার সকালেও সাংবাদিকদের কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও আগের চেয়ে বেড়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে সংবাদকর্মীরা বাইরে থেকেই তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা হয়তো আরও বেশি হতে পারে। ঘটনা নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
সুত্রঃ বিবিসি