বিশ্ব

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আরও ছয় মাস চলতে পারে: সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

  • 3:03 am - September 07, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৪ বার
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা । ছবিঃ সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত আরও অন্তত ছয় মাস চলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেটা। তাঁর আশঙ্কা, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী বা ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধে’ পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে সংঘাতের শেষ কোথায়, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট পথ দেখা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্যানেটা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে এমন এক ভয়াবহ অচলাবস্থায় আটকে গেছে, যেখান থেকে যুদ্ধ শেষ করার বাস্তবসম্মত বিকল্প খুবই সীমিত। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সমাধান ছাড়াই আরও ছয় মাস যুদ্ধ চলার সম্ভাবনাই বেশি।

বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক এবং পরে ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্যানেটা বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো আরেকটি দীর্ঘ ও ব্যর্থ যুদ্ধে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যে ভয়াবহ অচলাবস্থায় আটকে গেছে, সেটি কোনো রহস্য নয়। তাঁর ভাষায়, এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর মতো বিকল্প এখন সত্যিই খুব কম। এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের আরও ছয় মাস চলার আশঙ্কাই তাঁর কাছে বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে হচ্ছে।

প্যানেটার এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথও খুঁজছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা, সেনাসদস্যদের ওপর চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

সাবেক এই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, যুদ্ধের পাশাপাশি মার্কিন সামরিক ব্যবস্থার অভ্যন্তরেও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন সেনাবাহিনীর বেসামরিক প্রধান বা আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল পদত্যাগ করেছেন। একাধিক কর্মকর্তাকে বরখাস্তের বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধের খবরের মধ্যেই ড্রিসকল দায়িত্ব ছাড়েন।

এই পরিস্থিতিকে মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন প্যানেটা। তিনি বলেন, এমন এক সময়ে মার্কিন সেনাসদস্যরা যুদ্ধে যাচ্ছেন, যখন পেন্টাগন ও সামরিক কমান্ড কাঠামোর মধ্যে ব্যাপক অস্থিরতা চলছে। এতে এমন একটি ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, আসলে কেউই পুরো পরিস্থিতির দায়িত্বে নেই।

প্যানেটার ভাষায়, যুদ্ধ খারাপভাবে চলছে শুধু সেটিই উদ্বেগের বিষয় নয়। জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালন করা মার্কিন সেনাসদস্যদের সামরিক বাহিনী যথাযথভাবে সহায়তা করতে পারছে কি না, তা নিয়েও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইরানসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিপক্ষ এখন ওয়াশিংটনের দিকে গভীরভাবে নজর রাখছে। তারা দেখছে, নিজেদের রক্ষায় সামরিক শক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করার সক্ষমতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়েছে কি না।

চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং সন্ত্রাসবাদকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে প্যানেটা বলেন, ইরানও সেই হুমকির তালিকায় রয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রতিপক্ষদের কাছে দুর্বলতার কোনো বার্তা পাঠায়, তাহলে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

প্যানেটা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিপক্ষগুলো নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে, বৈঠক করছে এবং একে অপরকে বিভিন্নভাবে সমর্থন দিচ্ছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে বলে বিবেচনা করতে পারে। আর এমন একটি সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র একাধিক হুমকির মুখোমুখি, তখন দুর্বলতার বার্তা যাওয়া খুবই উদ্বেগজনক।

তবে প্যানেটার মন্তব্যের সঙ্গে একমত নয় পেন্টাগন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্বে দপ্তরটি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, প্রতিরক্ষা বিভাগে বিশৃঙ্খলা চলছে, এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। তাঁর মতে, প্রতিদিন দেশের প্রতিরক্ষায় কাজ করতে আসা দপ্তরের পেশাজীবী ও সেনাসদস্যদের জন্য এ ধরনের মন্তব্য অপমানজনক। পেন্টাগনে যে পরিবর্তনগুলো দেখা যাচ্ছে, সেগুলোকে বিশৃঙ্খলা না দেখে সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্যানেটার বক্তব্য নিয়ে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য জানতে দ্য গার্ডিয়ান যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

যুদ্ধ শেষ করার সামনে তিন পথ

প্যানেটার মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসতে ট্রাম্পের সামনে মূলত তিনটি পথ রয়েছে। তবে প্রতিটি পথের সঙ্গেই বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক ঝুঁকি রয়েছে।

প্রথম পথ হলো যুদ্ধ থেকে সরে আসা এবং কার্যত স্বীকার করা যে সামরিক অভিযান প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু প্যানেটার মতে, ট্রাম্পের পক্ষে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। কারণ যুদ্ধ থেকে সরে গেলে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এটিকে ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরতে পারে।

দ্বিতীয় পথ হলো বর্তমান অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত করা। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাবে, একই সঙ্গে পরিস্থিতিকে আরও বড় যুদ্ধে পরিণত হওয়া থেকে আটকে রাখার চেষ্টা করবে। কিন্তু কোনো পক্ষই আলোচনায় বসবে না কিংবা আত্মসমর্পণ করবে না।

প্যানেটার আশঙ্কা, দ্বিতীয় পথ বেছে নিলে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

তৃতীয় পথ হিসেবে তিনি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারকে সামনে এনেছেন। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ শেষ করতে পারলে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল বন্ধ বা ব্যাহত করার ইরানের সক্ষমতা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

প্যানেটার মতে, ট্রাম্পকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নেবেন কি না। তা না হলে বর্তমান অচলাবস্থা চলতেই থাকবে এবং তিনি কোনোভাবে জয়ী হচ্ছেন এমন একটি রাজনৈতিক ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি যদি যুদ্ধের সমাপ্তি বা কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনকে নির্দেশ না করে, তাহলে সেটিকে বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করা কঠিন হবে।

‘হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়াই হতে হবে প্রধান লক্ষ্য’

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব কি না, জানতে চাইলে প্যানেটা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে নাটকীয় পরিবর্তন আনতে হবে। তাঁর মতে, সেই পরিবর্তনের মাধ্যমে স্পষ্ট করতে হবে যে এই মুহূর্তে ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া।

তিনি মনে করেন, হরমুজ প্রণালি যদি দীর্ঘ সময় বন্ধ বা কার্যত অচল থাকে, তাহলে এর প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্ববাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

প্যানেটার দাবি, ট্রাম্প একাধিকবার যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছেন এবং দ্রুত কোনো ধরনের চুক্তি হতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। প্যানেটার মতে, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এসব বক্তব্যের অসামঞ্জস্য ট্রাম্পের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সিআইএর সাবেক এই পরিচালক বলেন, এখন মূল প্রশ্ন হলো, ট্রাম্প সত্যিই এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, যা বর্তমান অচলাবস্থা ভেঙে যুদ্ধকে একটি নির্দিষ্ট সমাপ্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে আটকে আছেন ট্রাম্প’

প্যানেটার মতে, ট্রাম্প এখন একাধিক দিক থেকে চাপের মধ্যে রয়েছেন। শুধু তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়ই নয়, ইরানের বিরুদ্ধে দেওয়া বিভিন্ন হুমকিও প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, ট্রাম্প নিজেই নিজের জন্য বেরিয়ে আসার পথ কঠিন করে ফেলেছেন। সামরিক অভিযান শুরু করার পর এখন যুদ্ধ বন্ধ করলে সেটিকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখানোর ঝুঁকি রয়েছে। আবার যুদ্ধ চালিয়ে গেলে তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ বলতে রাজি হননি। আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সংঘাত শেষ হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, এর উত্তর তাঁর জানা নেই এবং বিষয়টি ইরানিদের জিজ্ঞাসা করতে হবে।

মার্কিন সেনাদের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন নিয়েও উদ্বেগ

যুদ্ধের পাশাপাশি মার্কিন সেনাসদস্যদের দীর্ঘ সময় যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন রাখার বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন প্যানেটা।

তিনি বিশেষভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, কোনো ধরনের পর্যাপ্ত পালাবদলের পরিকল্পনা ছাড়া সেনাসদস্যদের অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধক্ষেত্রে রাখা যায় না।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানকে সহায়তা করতে রণতরিটি ২৬০ দিনের বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে মোতায়েন ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে রণতরিতে থাকা সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও চাপ তৈরি হওয়ার খবর সামনে এসেছে।

প্যানেটার মতে, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন থেকে পেন্টাগন ও ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। সামরিক অভিযান যত দীর্ঘ হবে, সেনাসদস্যদের শারীরিক ও মানসিক চাপ তত বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ, বিশ্রাম ও পালাবদল নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়বে।

যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনমতেও অস্বস্তি

প্যানেটা দাবি করেন, অনেক মার্কিন নাগরিক ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার ওপর আস্থা হারিয়েছেন। সাম্প্রতিক জনমত জরিপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অধিকাংশ আমেরিকান মনে করছেন ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো ভুল সিদ্ধান্ত ছিল এবং তাঁরা এই সংঘাতের বিরোধিতা করছেন।

তাঁর মতে, যুদ্ধের সামরিক ফলাফল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দেশের অভ্যন্তরে এর রাজনৈতিক ও জনমতগত প্রভাবও বিবেচনা করা জরুরি। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন জনগণের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা আরও কমতে পারে এবং সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে।

প্যানেটার সামগ্রিক আশঙ্কা হলো, ইরানের সঙ্গে বর্তমান সংঘাত যদি দ্রুত কোনো রাজনৈতিক সমাধানের দিকে না যায়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তাঁর মতে, যুদ্ধের সামরিক দিকের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখা প্রয়োজন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ কেবল সামরিক অভিযান নয়। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অবস্থান, মিত্রদের আস্থা, সেনাসদস্যদের সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার বিষয়ও জড়িত। তাই বর্তমান অচলাবস্থা যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিও তত বাড়তে পারে।

শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন কোন পথ বেছে নেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। যুদ্ধ থেকে সরে গিয়ে রাজনৈতিক চাপ নেওয়া, অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত করা, নাকি হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া, প্রতিটি বিকল্পের সঙ্গেই রয়েছে বড় ঝুঁকি। আর প্যানেটার আশঙ্কা অনুযায়ী, দ্রুত কোনো সমাধান না এলে ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত আরও ছয় মাস বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এই শাখার আরও খবর

বিতর্কিত ১০০ কোটি ডলারের এলএনজি চুক্তি, বড় ধরণের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জ্বালানি খাত বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই রাজনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে উচ্চ ব্যয়ের একটি নতুন ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক…

রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা

রাষ্ট্র-মালিকানাধীন দেশের ছয়টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। গত ৩০…

কোণঠাসা বিজেপি কি ফের কট্টর হিন্দুত্বের পথে?

টানা আড়াই দশক ধরে ভারতের রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নানা কারণে এখন কিছুটা চাপে। এই পরিস্থিতিতে দলটি আবারও কট্টর হিন্দুত্বের রাজনীতির…

ইরান ছাড়তে জীবন বাজি রেখেছিলেন দুই ফুটবলার

ইরানের জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানো যে তাঁদের জন্য কতটা ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তা জানতেন ফুটবলার আতেফেহ রামেজানিসাদেহ ও ফাতেমেহ পাসানদিদেহ। কারাবাস, পরিবারের…

ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ৩ কারাবন্দীর মৃত্যু, দুইজনের মাঝে ব্যবধান ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট

কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া তিন কারাবন্দীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার পৃথক সময়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে দুজন…

আরও দুই মামলায় চিন্ময় দাসের জামিন

ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা আরও দুই মামলায় সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে জামিন দিয়েছেন হাই কোর্ট। রোববার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au