২১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নির্দেশনার কপি। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৪ জুলাই-
বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসে কর্মরত নারী-পুরুষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য পোশাকবিধি নির্ধারণ করেছে।
২১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া এ নির্দেশনায় নারী কর্মীদের ছোট হাতা, ছোট দৈর্ঘ্যের পোশাক এবং লেগিংস পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ ও ওড়না কিংবা শালীন, পেশাদার ও সাদামাটা পোশাক পরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যারা হিজাব পরেন, তাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে সাদামাটা রঙের হেডস্কার্ফ।
পুরুষদের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত হয়েছে আনুষ্ঠানিক পোশাক—লম্বা বা হাফ হাতার ফরমাল শার্ট, ফরমাল প্যান্ট ও জুতা। জিনস ও গ্যাবার্ডিন প্যান্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে তা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করে ব্যাংকে যোগ দেওয়া তরুণদের মধ্য থেকে অনেক সময় ক্যাম্পাসের অভ্যাস চলে আসে অফিসেও। সেই প্রেক্ষিতে শালীনতা, সাম্য ও পেশাদার পরিবেশ বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত পরিসরে কে কী পোশাক পরবে, সেটি অবশ্যই ব্যক্তিগত বিষয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ নির্দেশনায় আরও বলা হয়, কর্মপরিবেশে শালীনতা, সততা, সময়ানুবর্তিতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে হবে। একজন মনোনীত কর্মকর্তা বিষয়গুলো তদারকি করবেন এবং কেউ নির্দেশনা না মানলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম এ নির্দেশনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, “নারী-পুরুষ পেশাগত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে কি না, সেটাই দেখার কথা। পোশাক নিয়ে এমন নির্দেশনা আগে কখনো দেখা যায়নি। এটি আসলে একটি সাংস্কৃতিক বলয় তৈরির প্রতিফলন।”
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক ও প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পোশাককে কেন্দ্র করে শৃঙ্খলা নির্ধারণের এ প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।