নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বাটলার লাইব্রেরির সামনে মে মাসে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ। ছবি: আলজাজিরা
মেলবোর্ন, ২৪ জুলাই-
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার, বরখাস্ত, ডিগ্রি বাতিল এবং তিন বছর পর্যন্ত শিক্ষাজীবন স্থগিতসহ নানা শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি অ্যাপারথেইড ডাইজেস্ট’ (সিইউএডি) এই তথ্য জানিয়েছে।
সংগঠনটি জানায়, যুদ্ধবিরোধী ও ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে এসব শিক্ষার্থীকে গুরুতর শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। সিইউএডি জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক ছিন্নের দাবি জানানো শিক্ষার্থীদের দমন করতেই এ ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।
২০২৪ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে তাঁবু গেড়ে অবস্থান নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। এই আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অনুপ্রেরণা দেয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত শত শত পুলিশ ক্যাম্পাসে ডেকে পাঠায় এবং বিক্ষোভকারীদের তাঁবু তুলে দেয়। গ্রেপ্তার করা হয় অনেক শিক্ষার্থীকে।
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী শাস্তি পেয়েছেন, তারা ২০২৫ সালের মে মাসে বাটলার লাইব্রেরিতে বিশৃঙ্খলা এবং ২০২৪ সালের বসন্তে অ্যালামনাই উইকেন্ডে ক্যাম্পাসে তাঁবু স্থাপন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভঙ্গ করেছিলেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানো বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার পরিপন্থী। এ ধরনের লঙ্ঘনের জন্য অবশ্যই পরিণাম ভোগ করতে হবে।”
অন্যদিকে সিইউএডি বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় যে মাত্রায় কঠোর শাস্তি দিয়েছে, তা অতীতে অন্য কোনো আন্দোলন, এমনকি ভবন দখলের ঘটনার ক্ষেত্রেও দেখা যায়নি। সংগঠনটির দাবি, ফিলিস্তিনপন্থি বলেই শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত কঠোরতা দেখানো হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, “আমাদের দমন করা যাবে না। আমরা ফিলিস্তিনের মুক্তির লড়াই চালিয়ে যাব।”
নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, কলাম্বিয়ার ক্যাম্পাস আন্দোলনের দৃশ্য বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনি তোলে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরণের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। তবে কলাম্বিয়ায় এই আন্দোলনের প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে কঠোর ছিল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সুত্রঃ আল জাজিরা