এই সংকটের মূল কারণ হলো প্লাস্টিক উৎপাদনের বিশাল গতি এবং লাগামহীন ব্যবহার। ছবিঃ ওয়াশিংটন পোস্ট
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- পৃথিবীর পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য প্লাস্টিক এখন এক ভয়াবহ বিপদের নাম। এটি শুধু পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী নয়, বরং মানবদেহে নানা ধরনের রোগ, এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলছে। শিশুকাল থেকে শুরু করে বার্ধক্য পর্যন্ত মানুষের জীবনের প্রতিটি ধাপে এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। শুধু স্বাস্থ্যজনিত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণই বছরে দাঁড়াচ্ছে প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার।
এই তথ্য উঠে এসেছে বিশ্বখ্যাত চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত এক বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংকটের মূল কারণ হলো প্লাস্টিক উৎপাদনের বিশাল গতি এবং লাগামহীন ব্যবহার। ১৯৫০ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্লাস্টিক উৎপাদন বেড়েছে ২০০ গুণেরও বেশি। আর ২০৬০ সালের মধ্যে এটি আরও তিনগুণ বেড়ে বছরে এক বিলিয়ন টনে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যদিও প্লাস্টিকের কিছু দরকারি ব্যবহার আছে, তবু সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বিস্তার—যেমন পানির বোতল, ফাস্টফুডের প্যাকেট ইত্যাদি। এগুলো ব্যবহারের পরপরই ফেলে দেওয়া হয়, যা ভয়াবহ মাত্রায় দূষণ ছড়াচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৮ বিলিয়ন টন প্লাস্টিক পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে—এভারেস্টের চূড়া থেকে শুরু করে সমুদ্রের গভীরতম স্তর পর্যন্ত।
বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশ প্লাস্টিক উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্মত হলেও, সৌদি আরবসহ কিছু পেট্রোস্টেট দেশ এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছে।
এই গবেষণার প্রধান লেখক, যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন কলেজের শিশু বিশেষজ্ঞ ও মহামারিবিদ অধ্যাপক ফিলিপ ল্যান্ড্রিগান বলেন, “আমরা জানি, প্লাস্টিক দূষণের স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত প্রভাব কতটা বিস্তৃত ও গভীর।”
বিশেষ করে গর্ভের শিশু, নবজাতক ও ছোট শিশুদের ওপর প্লাস্টিকের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে। এর কারণে গর্ভপাত, মৃত সন্তান জন্ম, জন্মগত ত্রুটি, ফুসফুসের সমস্যাসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া প্রজনন ক্ষমতায় ঘাটতি এবং শিশু বয়সেই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
প্লাস্টিক বর্জ্য অনেক সময় মাইক্রোপ্লাস্টিকে রূপ নেয়, যা পানির সঙ্গে, খাবারের মাধ্যমে বা বাতাসে ভেসে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। মানুষের রক্ত, মস্তিষ্ক, মায়ের বুকের দুধ, গর্ভফুল, শুক্রাণু এবং অস্থিমজ্জায় এই প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শুধু প্লাস্টিক ব্যবহারে নয়, বরং তার উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান