উল্কাপিণ্ডটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ম্যাকডোনাফ মিটিওরাইট’। ছবিঃ বিবিসি
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্ট- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের হেনরি কাউন্টির ম্যাকডোনাফ শহরে এক অভূতপূর্ব মহাজাগতিক ঘটনা ঘটেছে। গত ২৬ জুন দিনের আলোয় আকাশে উজ্জ্বল আগুনের গোলা দেখা যায় এবং প্রবল বিস্ফোরণের শব্দে চারপাশ কেঁপে ওঠে। পরে জানা যায়, সেটি ছিল একটি বিরল উল্কাপিণ্ড, যা পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ২ কোটি বছর বেশি বয়সী। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই উল্কাপিণ্ডের বয়স আনুমানিক ৪৫৬ কোটি বছর, যেখানে পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪৫৪ কোটি বছর।
ঘটনার দিন উল্কাপিণ্ডটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে প্রবল গতিতে ছুটে আসে। আকাশে দেখা গেলেও এটি ধীরে ধীরে আকার ও গতি হারায়। তবুও প্রতি সেকেন্ডে অন্তত ১ কিলোমিটার গতিতে এটি ছুটে এসে একটি বাসার ছাদ ভেদ করে ভেতরে ঢোকে। সৌভাগ্যবশত, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শত শত মানুষ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও উজ্জ্বল আলো ও বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ম্যাকডোনাফ শহরের একটি বাড়ির ছাদ ভেদ করে পড়া উল্কাপিণ্ডের একটি খণ্ড পরীক্ষা করেন। তারা জানিয়েছেন, উল্কাপিণ্ডটির প্রকার অনুযায়ী এর বয়স প্রায় ৪৫৬ কোটি বছর, যা পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ২ কোটি বছর বেশি।
পরবর্তীতে বাড়ির মালিক পাওয়া উল্কাপিণ্ডের টুকরা বিজ্ঞানীদের হাতে তুলে দেন। জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন, এটি ‘কন্ড্রাইট’ জাতীয় শিলাময় উল্কাপিণ্ড, যা সৌরজগতের শুরুর দিকে গঠিত হয়েছিল। গবেষক স্কট হ্যারিস বলেন, “পৃথিবীতে পড়ার আগে এই উল্কাপিণ্ডের দীর্ঘ মহাজাগতিক ইতিহাস রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও মানুষের সচেতনতার কারণে আমরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উল্কাপিণ্ড উদ্ধার করতে পারছি।”
এই উল্কাপিণ্ডটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ম্যাকডোনাফ মিটিওরাইট’। এটি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে উদ্ধার হওয়া ২৭তম উল্কাপিণ্ড। বাড়ির মালিক জানিয়েছেন, আঘাতের পরও ঘরের চারপাশে মহাকাশের ধুলা পাওয়া যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এখন এর উপাদান, গতি ও আঘাতের ধরন নিয়ে গবেষণা করছেন।
গবেষক হ্যারিস আশা প্রকাশ করেন, এই তথ্য ভবিষ্যতে বড় আকারের উল্কাপিণ্ডের আঘাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষায় সহায়ক হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “একদিন না একদিন বড় কিছু আঘাত হানতে পারে, যা বিপর্যয় ডেকে আনবে। সেই ঝুঁকি ঠেকানোই আমাদের লক্ষ্য।”
সুত্রঃ বিবিসি