নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না হাম, রূপ নিয়েছে মারণব্যাধির
শ্যামল সান্যাল, ঢাকা মেলবোর্ন, ৫ মে- দেশে প্রথম হাম শনাক্ত হওয়ার পর ৫০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে গতকাল সোমবার। বিস্ময়কর হলেও সত্য,গত…
মেলবোর্ন, ৫ মে- যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ’ (ইউএসটিআর)-এর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী ব্রেন্ডান লিঞ্চ তিন দিনের সরকারি সফরে আজ মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকায় আসছেন। এই সফরকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এই বাণিজ্য চুক্তিকে অসম উল্লেখ করে দেশ ও দেশের বাইরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন রাজনৈতিক সরকার গঠনের পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্য প্রতিনিধির প্রথম ঢাকা সফর। সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক ‘বিতর্কিত’ বাণিজ্য চুক্তি ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (এআরটি)’ এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণ করা।
এই সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়টি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য, জ্বালানি ও শিল্পপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেটিও বিস্তারিতভাবে আলোচনায় আসবে।
ঢাকায় সফরকালে ব্রেন্ডান লিঞ্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে ‘এআরটি’ চুক্তির বাস্তবায়ন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিকে দ্রুত কার্যকর করতে চায়। তাই এখন মূল ফোকাস থাকবে আগের প্রতিশ্রুতিগুলোর অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন কাঠামো পর্যালোচনা করা।
চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ভারসাম্য আনা এবং আমদানি প্রতিশ্রুতি পূরণ। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বড় অঙ্কের কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গম, সয়াবিন, তুলা ও ভুট্টা। একই সঙ্গে আগামী ১৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য আমদানির পরিকল্পনাও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য, জ্বালানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি পণ্যের প্রবেশাধিকার আরও সহজ করা হবে। পাশাপাশি কিছু অশুল্ক বাধা কমানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মান যাচাই প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস।
মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বে এই সফরের উদ্দেশ্য হলো বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো, বিনিয়োগ বাধা দূর করা এবং বাজার সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হবে।
দূতাবাস আরও জানায়, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে উভয় দেশের জন্য বাণিজ্যিক সুযোগ বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
সফরকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও ঢাকার কূটনৈতিক যোগাযোগ সাম্প্রতিক সময়ে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর ঢাকা সফর করেন। এরপর এপ্রিল মাসে মার্কিন বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার বাংলাদেশে আসেন। এবার ইউএসটিআর প্রতিনিধির সফর সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফর শুধু বাণিজ্য আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দুই দেশের কৌশলগত অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন মানসম্পন্ন গাড়ি গ্রহণ, খাদ্য ও ওষুধ পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনকে স্বীকৃতি দেওয়া, এবং কিছু পুনঃনির্মিত পণ্যের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।
এছাড়া ডিজিটাল বাণিজ্য সহজ করতে সীমান্ত পেরিয়ে তথ্য প্রবাহের অনুমতি এবং ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের ওপর শুল্কমুক্ত নীতি বজায় রাখার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে।
জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্য দীর্ঘমেয়াদে আমদানি করবে। প্রতিরক্ষা খাতেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরঞ্জাম কেনার বিষয়ে নীতিগত অগ্রগতি রয়েছে।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি এই বাণিজ্য সম্পর্কের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই সফর সফল হলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে এটি দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে আলোচনার ফলাফল কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হয়, সেটি নির্ভর করবে দুই দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং অর্থনৈতিক কৌশলগত সমন্বয়ের ওপর।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au