নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না হাম, রূপ নিয়েছে মারণব্যাধির
শ্যামল সান্যাল, ঢাকা মেলবোর্ন, ৫ মে- দেশে প্রথম হাম শনাক্ত হওয়ার পর ৫০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে গতকাল সোমবার। বিস্ময়কর হলেও সত্য,গত…
মেলবোর্ন, ৫ মে- যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ইরান নিয়ে সর্বশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করলে সেই সক্ষমতা অর্জনের সময়সীমায় বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত গ্রীষ্মে যে ধারণা ছিল, সেটিই এখনো বহাল আছে।
অর্থাৎ ধারণা করা হচ্ছে, ইরান চাইলে কয়েক মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতায় পৌঁছাতে পারে। এই মূল্যায়ন এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলমান রয়েছে এবং এসব অভিযান আংশিকভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোর উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় মূলত ইরানের প্রচলিত সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি ইসরায়েল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাতেও আঘাত হেনেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সময়সীমা পেছানো যথেষ্ট নয়। ইরানের পারমাণবিক অগ্রগতি কার্যকরভাবে থামাতে হলে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ধ্বংস বা অপসারণ করা জরুরি। কারণ এই উপাদানই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির মূল ভিত্তি।
গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত। দুই পক্ষের মধ্যে গভীর মতবিরোধ রয়ে গেছে এবং উত্তেজনা কমেনি। এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল সীমিত করে দিয়েছে, যার ফলে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহে প্রভাব পড়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

হরমুজে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ প্রকল্প চালুর ঘোষণা ট্রাম্পের , ছবিঃ সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এর আগে, ১২ দিনের যুদ্ধ শুরুর আগে ধারণা দিয়েছিল যে ইরান তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম উৎপাদন করতে পারে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতায় পৌঁছাতে পারে। তবে জুন মাসে নাতাঞ্জ, ফোর্দো ও ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর সেই সময়সীমা পরিবর্তন হয়ে প্রায় নয় মাস থেকে এক বছর ধরা হয়।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, হামলায় তিনটি সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থান এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। সংস্থাটির ধারণা, এর প্রায় অর্ধেক ইসফাহানের একটি ভূগর্ভস্থ টানেল কমপ্লেক্সে থাকতে পারে। তবে পরিদর্শন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, পুরো মজুত যদি আরও সমৃদ্ধ করা হয়, তবে তা দিয়ে অন্তত ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেছেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি করেছে এবং তাদের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিষ্কার, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিকবার বলেছেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সর্বোচ্চ চাপ অব্যাহত থাকবে। একই অবস্থান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না, এটাই মূল লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো মূলত ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার ওপর বেশি কেন্দ্রীভূত ছিল। পারমাণবিক উপাদান ও সংরক্ষিত মজুতকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। ফলে গোয়েন্দা মূল্যায়নে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের সাবেক বিশ্লেষক এরিক ব্রুয়ার বলেন, ইরানের পারমাণবিক উপাদান এখনো অক্ষত থাকতে পারে এবং সেগুলো গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় রাখা, যেখানে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো পারমাণবিক স্থাপনায় অগ্রাধিকার না দেওয়ায় সময়সীমা অপরিবর্তিত থাকা স্বাভাবিক।
অন্যদিকে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে ইরানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
সাবেক জাতিসংঘ পরমাণু পরিদর্শক ডেভিড অ্যালব্রাইট বলেন, জ্ঞান ধ্বংস করা যায় না, তবে দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা ক্ষতিগ্রস্ত করা সম্ভব। তার মতে, বিজ্ঞানীদের হত্যার ফলে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানায়, ২০০৩ সালের পর ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র প্রকল্প বন্ধ করে দেয়। তবে কিছু পশ্চিমা বিশ্লেষক ও ইসরায়েল দাবি করে, সেই কর্মসূচির কিছু অংশ গোপনে বজায় রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বর্তমান গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, সামরিক হামলা ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। সময়সীমা অপরিবর্তিত থাকায় পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে কূটনৈতিক আলোচনা, সামরিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের ওপর।
সূত্র- রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au